বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১১

শিশুদের পুষ্টি



বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা খুবই নাজুক। শিশুর জম্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ-ই সর্বোত্কৃষ্ট। এরপর শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির হার দ্রুত হয়। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য পূর্ণ ছয় মাস বয়স থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার দেয়া প্রয়োজন। যেমন নরম ভাত, সেদ্ধ করা চটকানো মাছ-মাংস, ফলের রস, চটকানো আলু, চটকানো শাক-সবজি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন প্রকার হালুয়া, পাকা কলা ইত্যাদি।

খাদ্যের ছয়টি উপাদান যেমন-শর্করা, লেহ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন-চালেরগুড়া, চাল, সুজি, আটা, রুটি, ভাতের মাড়, আলু সিদ্ধ, ক্ষীর, সেমাই, পায়েস ইত্যাদিতে গুড়, চিনি মিশিয়ে খাবার নরম ও পাতলা করে শিশুদেরকে দেয়া যায়। এ সব খাবার শরীরে শক্তি যোগায়। আমিষ জাতীয় খাবার যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, ডিমের পুডিং, ডাল, সীমের বিচি, বাদাম ইত্যাদি খাবার সেদ্ধ ও পিষে নরম করে শিশুদের খাওয়ানো যায়। ভিটামিন ও খনিজ লবণ শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেপেঁ, আপেল, কমলা, মাল্টা, জাম ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন শাক-সবজি যেমন- লাল শাক, পালং শাক, কাঁচ কলা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, ফুলকপি, মটরশুটি, বরবটি, টমেটো ইত্যাদি তৈল দিয়ে সেদ্ধ করে চটকে শিশুদের খাওয়ানো যায়। শিশুদেরকে ছয় মাস বয়স থেকে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি নিরাপদ ফুটানো পানি ও পানি জাতীয় ফল যেমন-কমলা, ডালিম, মাল্টা, জামরুল, আংগুর ইত্যাদি ও মৌসুমি বিভিন্ন ফলের রস দেয়া যায়। শিশুর খাদ্যে তৈল এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অন্যান্য খাদ্যের সাথে তেলের মিশ্রণের ফলে বাড়তি শক্তি, স্বাদ, আমিষ, লেহ এবং ভিটামিন এ ও ডি এর চাহিদা মেটায়।

শিশুদেরকে যেভাবে পরিপূরক খাবার দিবেন: প্রথমে ১-২ চামচ করে স্যুপ, ফলের রসের সাথে সমপরিমাণ বিশুদ্ধ ফুটানো পানি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। পরবর্তীতে পানি বাদ দিয়ে রসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিনে ২ বার করে খাওয়াতে হবে। পরিপূরক খাবার শুরু করার সময় প্রথমে নরম করে তরল, আধা-তরল অভ্যাস হয়ে গেলে আধাশক্ত থেকে শক্ত খাবার দিতে হবে। যেমন ফল দেবার এক সপ্তাহ পর ১-২ চামচ করে দিনে ২ বার দুধের সাথে সুজি বা চালের গুড়া, গুড় ইত্যাদি মিশিয়ে নরম করে শিশুকে খাওয়াতে হবে। শস্য দেবার এক সপ্তাহ পর ১ চা চামচ করে নরম সেদ্ধ ডিমের কুসুম দেয়া যাবে। ডিম দেবার ১ সপ্তাহ পর ১-২ চামচ করে দিনে ২ বার শাক-সবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, আলু, লাল শাক ইত্যাদি সেদ্ধ করে চটকিয়ে নরম করে খাওয়াতে হবে। সবজি দেয়ার এক সপ্তাহ পর চাল, ডাল, আলু, শাক-সবজি খিচুড়ী নরম করে খাওয়াতে হবে। খিচুড়ী দেবার এক সপ্তাহ পর ১-২ চামচ করে দিনে ১ বার কলিজা, মাংস ইত্যাদি সেদ্ধ করে পিষে খাওয়াতে হবে। হুট করে কোন খাবার দেয়া যাবে না। ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। সহজলভ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের খাদ্য থেকে খাওয়াতে হবে। জোর করে শিশুদেরকে খাওয়াতে গেলে হিতে বিপরীত হয়।

কোন বয়সে কত বার পরিপূরক খাবার খাওয়াতে হবে- যেমন ৬-৭ মাস বয়সে দিনে ২ বার; ৭-৮ মাস বয়সে দিনে ৩ বার; ৯-১২ মাস বয়সে দিনে ৪ বার; ১-২ বত্সর বয়সে কমপক্ষে ৫/৬ বার পরিপূরক খাবার খাওয়ানো যাবে। শিশু অপুষ্টিতে ভূগলে বাড়তি পরিপূরক খাবার দেয়া প্রয়োজন। ২ বত্সর পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। হঠাত্ করে মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। এক বত্সর বয়স থেকে শিশুদেরকে নিজের হাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করলে ভাল হয়। পরিপূরক খাবার তৈরী করার সময় মনে রাখতে হবে, প্রথমে সহজে তৈরী করা যায় এমন খাবার অল্প করে পাতলা ও নরম করে ১-২ চা চামচ করে খাওয়াতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার দিতে হবে। প্রথমে কোন খাবার দিতে হলে দুধ খাওয়ানোর কিছু আগে দিতে হবে। অল্প খাবার অধিক শক্তি যোগায় এমন খাবার দিতে হবে, যেমন- তেল, গুড় বা চিনি। মৌসুম অনুযায়ী টাটকা ও তাজা খাবার দিতে হবে। শিশু পরিমাণে কম খায় । তাই অল্প অল্প করে খাবার দিতে হবে। এলার্জি ও ডায়রিয়া হলে নির্দিষ্ট কিছু খাবার বাদ দিতে হবে। শিশুর পছন্দ অনুযায়ী খাবার দিতে হবে। খাবারের সাথে নিরাপদ বিশুদ্ধ ফুটানো পানি বোতল করে না দিয়ে চামচ বা কাপ/বাটি দিয়ে দিতে হবে। শিশুকে খাওয়ানোর সময় ধৈর্য্য সহকারে খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন একই খাবার না দিয়ে খাবারের মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। শিশুকে জোর করে খাওয়ানো যাবে না। হাসিখুশি পরিবেশে গল্প করে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। শিশুর খাবার তৈরী করার সময় হাত ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। শিশুর ব্যবহূত হাড়ি-পাতিল, থালা বাসন, চামুচ, গ্লাস ইত্যাদি নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানিতে ধূয়ে নিতে হবে। খাবার খোলা রাখা যাবে না। মশা, মাছি, ধূলা-বালি না পরতে পারে এমন মত করে ঢেকে রাখতে হবে। রান্না করা খাবার ২ ঘন্টার মধ্যে না খাওয়ালে তবে সে খাবার আবার ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে। উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শিশুকে সংক্রামক রোগ, কৃমি রোগ ইত্যাদি থেকে নিরাপদ রাখে। সুস্থ দেহের সুস্থ মন শিশু থাকবে হাস্যেজ্জল।

স্ট্রোস বা মানসিক চাপ




স্ট্রোস বা মানসিক চাপ শুধু শারীরিক সমস্যাই করে না স্ট্রেসের কারণে ত্বকে ব্রণ বা একনি হতে পারে। প্রবল মানসিক চাপের কারণে শরীরে হরমোন নি:স্বরণের গতি বেড়ে যায়। আর এই হরমোন একনি সৃষ্টিতে সহায়ক। এছাড়া স্ট্রেস একনির অবস্থার অবনতি ঘটাতে অন্যতম একটি ফ্যাক্টর। স্ট্রেস দু’ভাবে একনি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এক: স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে এড্রিনাল গ্লান্ডকে স্টিমুলেট করে। ফলে অধিক হরমোন নি:সরিত হয়। দুই: মানসিক চাপের কারণে বিদ্যমান একনি নিরাময়ের গতি মন্থর হয়। এড্রিনাল গ্লান্ড থেকে নি:সৃত কর্টিসোল হরমোন ত্বকের তৈলাক্ত গ্রন্থিকে অতিরিক্ত তেল বা সেবাম উত্পাদনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে এবং ত্বকের পোরস বা ক্ষুদ্রাতি ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একনি বেড়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে একনির তীব্রতায় প্রদাহ হতে পারে। আর যদি একনির এ অবস্থায় দ্রুত সঠিক চিকিত্সা না দেয়া যায় তবে একনি থেকে ক্ষত তৈরী হয় এবং মুখের ত্বকে স্কার সৃষ্টি হয়। তাই ত্বকের ব্রণ চিকিত্সার ক্ষেত্রে শুধু ওষুধই যথেষ্ট নয়, মানসিক চাপ থাকলে তা অবশ্যই কমাতে হবে। তা না হলে একনির তীব্রতা কমানো যাবেনা। শুধু কর্টিসোল হরমোন নয়, শরীরে টেসটেসটেরণ হরমোনের আধিক্যের কারণেও অয়েল গ্লান্ড স্টিমুলেটেড হয়। এ কারণেও একনি বাড়তে পারে। তাই একজন দক্ষ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা নেয়া খুবই দরকার। তবে ইদানিং অনেক একনি আক্রান্ত রোগী দেখা যায় যারা একনির ক্ষেত্রে বিকল্প চিকিত্সার প্রলোভনে আকৃষ্টি হন। লেজার, ফ্যাসিয়াল বা হারবাল চিকিত্সা কোন কিছুতেই একনির সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। একনির যথাযথ চিকিত্সা করতে হলে অবশ্যই প্রটোকল অনুযায়ী একনির ধরণ বুঝে চিকিত্সা দিতে হবে। অপর্যাপ্ত চিকিত্সা ও ভুল চিকিত্সায় একনি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ত্বকে স্থায়ী ক্ষত বা গর্ত তৈরী হতে পারে। তাই একনির সমস্যা অবহেলা করা বাঞ্জনীয় নয়। যদি মানসিক চাপ কমানোর মত অবস্থা না থাকে এবং যে কারণে আপনার মানসিক চাপ তৈরী হচ্ছে সে পারিপাশ্বিকতার নিরসন না ঘটে তবে প্রতিদিন খানিকটা হালকা ব্যায়াম বা জগিং করলেও স্ট্রেস অনেক খানি কমতে পারে। পাশাপাশি একনি প্রবণ ত্বকের অয়েল কন্ট্রোলে ডার্মাটোলজিস্ট রিকমেন্ডেড কোন ভালো ক্লিনজার ব্যবহার করুন। পাশাপাশি প্রয়োজন সাউন্ড স্লিপ বা ভালো ঘুম।

এছাড়া হালকা মেজাজে থাকতে চেষ্টা করুন। বই পড়ুন। সম্ভব হলে কমেডি ছবি দেখুন। এতে আপনার স্ট্রেস কমতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে একনি কমতে সহায়ক হবে।

-ইকনমি ক্লাস সিনড্রোম



কম্পিউটারের ব্যবহার এখন সর্বত্র। আমরা দিন দিন কম্পিউটার নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। আর এ নির্ভরতায় আমরা ভুগছি শারীরিক নানা উপসর্গে। সম্প্রতি এমনি এক ধরনের রোগ হলো ইকনমি ক্লাস সিনড্রোম। কিছুদিন পূর্বে নিউজিল্যান্ডের এক কম্পিউটার ব্যবহারকারী তার বিশেষ কাজে একরকম বিরতি ছাড়াই একদিনে একটানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করছিলেন। একসময় হঠাত্ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখতে পান-একটানা কাজ করতে গিয়ে এবং একটানা বসে থেকে তার পায়ের রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এভাবে জমাট বাঁধতে বাঁধতে তা ফুসফুসেও চলে আসায় সেখানে তার রক্ত চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একসময় শ্বাসকষ্ঠ হতে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নিউজিল্যান্ডের ডাক্তাররা বলেছেন, ১৮ ঘণ্টা কেন ২৪ ঘণ্টা কম্পিউটারে বসে কাজ করলেও তার তেমন কোনো সমস্যা হতো না-যদি না কাজের মাঝে সে হাত-পায়ের নড়াচড়া অব্যাহত রাখত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা বসে কম্পিউটারে বসে কাজ করলে হাতের আঙ্গুল ছাড়া তেমন কোনো অঙ্গ সঞ্চালন হয় না। ফলে রক্ত জমাট বাঁধাই স্বাভাবিক। আর পায়ের রক্ত জমাট বাঁধা শুরু হলে তা দ্রুত ফুসফুসে ছড়ায়। ডাক্তাররা এ রোগটির নাম দিয়েছেন-ইকনমি ক্লাস সিনড্রোম। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে ডিপ ভেইন সিনড্রোম নামেও অভিহিত করা হয়।

এ সমস্যা এড়াতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা ব্যবহারকারীদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ দেন।

০০ যখন কম্পিউটার ব্যবহার করবেন-১৫ মিনিট অন্তর চোখ মনিটর থেকে সরিয়ে নিন।

০০ কম্পিউটারে কাজ করার সময় হাত-পা যথাসম্ভব নাড়াচড়া করতে হবে। মাঝে মধ্যে হাঁটাচলা করে আবার কাজ শুরু করা যেতে পারে।

০০ প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

০০ প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে ৫ মিনিট চোখ ও হাত-পায়ের ব্যায়াম করতে হবে।

আশা করা যায়, এভাবে চললে ইকনমি ক্লাস সিনড্রোমের মতো ভয়াবহ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

ক্যালসিয়াম ওজন কমাতে



ক্যালসিয়াম এমন একটি মিনারেল যা শরীরের চর্বি কমিয়ে ওজনটাকেও কমিয়ে দেয়। সমপ্রতি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে পারাভিউ ইউনিভার্সিটির গবেষগণ। বেশ কিছু সংখ্যক মহিলাদের নিয়ে এ পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে। গবেষকগণ তাদেরকে বেশি বেশি করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধি খাবার খাইয়েছেন। অপর আরেকদল মহিলাদেরকে গবেষকগণ অল্প ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাইয়েছেন। দেখা গেছে যারা বেশি করে ক্যালসিয়াম খেয়েছেন তাদের ওজন কমেছে বাকিদের তুলনায় । ক্যালসিয়াম কিভাবে, ওজন কমায় তা নিয়ে বিজ্ঞানী-গবেষকগণ একটা নতুন তথ্যও দাঁড় করিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে রক্তে প্যারাথাইরয়েড় হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি একই সাথে রক্তে এ্যাকটিভ ভিটামিন-ডি এর মাত্রা বড়িয়ে দেয়। এই প্যারাথাইরয়েড হরমোন এবং ভিটামিন ডি ফ্যাট সেলগুলোতে ক্যালসিয়ামের অনুপ্রবেশ ঘটায় এবং ফ্যাট-সেলগুলোতে আরও ফ্যাট জমা হতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে ফ্যাট জমে ওজন বেড়ে যায়। অপরদিকে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে এই দৃশ্যপট বদলে যায়। ফলে ফ্যাট ভাঙ্গতে শুরু করে আর ফ্যাটের ষ্টোরও কমে যায়। ফলে ওজনও কমে যায়। তাই ওজন কমাতে এখন থেকে বেশি বেশি ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার

খেতে থাকুন।

মেদবিহীন, ছিপছিপে সুন্দর স্বাস্থ্য



মেদবিহীন, ছিপছিপে সুন্দর স্বাস্থ্য সবার প্রিয়। আর সবাই চায় নিজের সুগঠিত, সুগড়ন ও কার্যক্ষম শরীর। এই প্রত্যাশা পূরণ সহজ কাজ নয়। রসনার সংযম এবং নিয়মিত শরীর চর্চায় ব্রত শক্ত মনের মানুষই স্বাভাবিক ওজন ও সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকেন। এজন্য অহেতুক জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এজন্য খুব বেশি প্রচেষ্টা বা জোগাড় যন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না। কতিপয় বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রথমত: মিষ্টি ও ভাজাভূনা খাবেন না। ভাত খাবেন নামমাত্র। দ্বিতীয়ত: প্রতিদিন জীবনযাপনে যাই ঘটুক নিজে নিজে একটু ব্যায়াম করে নেবেন। সেটা হাটা, সাঁতার বা ফ্রি হ্যান্ড যাই আপনার পছন্দ। এ দু’টি হলো জিমে না গিয়ে ওজন কমানোর প্রাথমিক ও অন্যতম শর্ত।

মোটা হওয়ার কারণ:

০০ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাওয়া। নিয়ম অনুযায়ী খাবেন

০০ শরীরে খাবারের প্রয়োজন নেই, অথচ ভালো খাবার দেখলে খেতে ইচ্ছে করে বলে অনেকে সারাদিন খান। এতে শরীরে মেদ জমে

০০ সারাদিন শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ওজন বাড়ে

০০ বংশগত কারণে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। খাবার যখন কম থাকে, জিন শরীরে ফ্যাটের স্টোরেজ বাড়িয়ে দেয়। এরপর খাবার বেশি খেলে এবং শক্তি ক্ষয় কম হলে ওজন বেড়ে যায়

স্বাভাবিক উপায়ে ওজন কমানো:

ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায় হলো-এমন ডায়েট মেন চলুন যাতে বেশি পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার আছে, মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন আছে এবং কম পরিমাণে ফ্যাট আছে। যারা অফিসে যান তারা ব্রেকফাস্টটা খেয়ে দুপুরের খাবার অফিসে যাওয়ার সময় লাঞ্চ হিসেবে নিয়ে যান।

ডায়েট টিপস:

০০ আলু, কুমড়ো, কাঁচা কলা খাবেন না

০০ ছাঁকা তেলে ভাজা কিছু খাবেন না; তা সে বেগুন হোক বা পটল ভাজা হোক

০০ অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস, হেলথ ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস খাবেন না

০০ চিনি একেবারেই খাবেন না, প্রয়োজনে সুইটনার চলতে পারে

০০ গরু, খাসির মাংস ও চিংড়ি মাছ মোটেই খাবেন না

০০ আপনার পছন্দ-অপছন্দের খাবার, বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও বাজেটের ওপর ভিত্তি করে ডায়েট চার্ট তৈরি করুন

০০ কোন ধরনের কাজের সঙ্গে আপনি যুক্ত তার ওপর নির্ভর করবে আপনার পারফেক্ট ডায়েট

০০ আপনার ডায়েটে যাতে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যথেষ্ট পরিমাণে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন

০০ প্রতিদিনের ডায়েটে হোলমিল এবং বিভিন্ন ধরনের দানাশস্য রাখুন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, যেমন-হোলহুইট ব্রেড, রাইস, ওটস মিল, হোল মিল পাস্তা, বার্লি, ব্রাউন রাইস খান প্রয়োজন মতো

০০ ওবেসিটি কমিয়ে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে ফল ও শাক সবজি খান

অসময়ে খিদে পেলে করণীয়:

অসময়ে খিদে পেলে হেলদি স্ন্যাক্স খান। লাঞ্চ এবং ডিনারের মাঝে ৩/৪ ঘন্টা পর পর হেলদি স্ন্যাক্স খেতে পারেন। খুব খিদে পেলে শুকনো রুটি বা টোস্ট বিস্কুট খান। ফলও খেতে পারেন। লাউ বা অন্য সবজির রস বা সিদ্ধ শাক সবজি খেতে পারেন। বেশি রাতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খাবেন।

বাড়িতে ব্যায়াম পদ্ধতি:

০০ বাড়িতে কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। এতে সময় একেবারেই কম লাগে। অথচ আপনি ফিট থাকতে পারবেন এবং অতিরিক্ত মেদ শরীরে জমা হবে না

০০ বাড়িতে যতো সময় অবস্থান করবেন সেই সময়ে শুয়ে বা বসে না থেকে হাঁটা চলাও যে ব্যায়াম তা অনেকে ভাবেন না। আপনার বাড়িতে যদি সিড়ি থাকে তাহলে কারণে অকারণে দৈনিক কয়েকবার ওঠানামা করতে পারেন। আরো ভালো হয় যদি হালকা জিনিসপত্র বহন করা যায়। এত আপনার মাসল টোনড হবে

০০ বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং ব্যায়াম, যেমন- আর্ম স্ট্রেচিং বা লেগ লিফটিং করতে পারেন। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং বিভিন্ন অংশের ফ্যাট ঝরে যায়

০০ হার্ট সুস্থ রাখার জন্য জগিং খুব ভালো ব্যায়াম। বাড়ির যে কোনো জায়গায় আপনি স্পট জগিং করতে পারেন। তবে এ সময় উপযুক্ত জুতো পরবেন, যাতে পায়ের ওপর স্ট্রেস না পড়ে

০০ দু’হাত সোজা করে উপরের দিকে রাখুন। পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে যতোটা পারেন লাফান। কোনো বিরতিছাড়া এভাবে এক মিনিট লাফাবেন। এক মিনিট ব্রেক দিয়ে দিয়ে দুই থেকে তিনবার সাইকলটা রিপিট করুন।

০০ পুশ-আপ্স করতে পারেন। এই ব্যায়াম আবার চেস্ট ও আর্ম মাসলের শক্তি বাড়ায়। মাটির ওপর উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ুন। তারপর দুই হাতের সাহায্যে মাটি থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার হাটুতে ভাজ না পড়ে। শুরুতে ৫ থেকে ১০ টা পুশ আপ্স দেয়ার চেষ্টা করুন। সকালে এক সেট এবং বিকালে এক সেট পুস-আপ্স করতে পারেন।

০০ পেটের মাসলের স্ট্রেংথ বাড়ানোর জন্য সিট-আপস জাতীয় ব্যায়াম করতে পারেন। মাটিতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাটু ভাজ করুন। ডান হাত বা কাঁধের ওপর এবং বা হাত ডান কাঁধের ওপর রাখুন। এরপর আস্তে আস্তে শরীরের ওপরের অংশ মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করুন। মাঝামাঝি অবস্থানে যেতে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। পরে ক্রমশ শোয়া অবস্থায় ফিরে যান। শুরুতে ৩ থেকে ৫টা সিট আপ্স যথেষ্ট হবে।

বিশেষ সতর্কতা:

০০ কোমল পানীয় একেবারেই খাবেন না। কোল্ড ড্রিংস মোটা হওয়ার আশঙ্কা ৬০ ভাগ বাড়িয়ে দেয়

০০ কখনো স্টার্ভেশন ডায়েট করবেন না। এই পদ্ধতিতে দ্রুত রোগা হওয়া গেলেও শরীর প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে নানা সমস্যা দেখা দেয়

০০ রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন

০০ বার বার অল্প করে খাবেন। লাঞ্চ বা ডিনারের সময় অবশ্যই কম খাবেন।
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অনেকে যখন তখন ভিটামিন খেয়ে থাকেন। ভিটামিন হলো শরীরে জন্য এক অত্যাবশ্যক জৈব যৌগ। ভিটামিন শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক কাজে সহায়তা করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শুধু তাই নয়, ভিটামিন দাঁত এবং হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে,অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ক্ষয়পুরণে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণ করলে তা আর্শীবাদের চেয়ে অভিশাপ ডেকে আনে। অতিরিক্ত ভিটামিন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি রক্ষার প্রক্রিয়াকে অবদমিত করে। অতিরিক্ত ভিটামিন-এ গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, লিভার বড় হওয়া প্রভূতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন-এ খেলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন-সি খেলে পেট ব্যথা, ডায়ারিয়া এবং কিডনিতে পাথর হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন-ডি গ্রহণে তলপেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কোষ্টকাঠিন্য হতে পারে। অতিরিক্ত আয়রণ গ্রহণে লিভারে ক্ষতি হতে পারে। তাই শারীরিক দুর্বলতা কিংবা শারীরিক অন্য যে কোনো কারণে হুট করে ভিটামিন গ্রহণ না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়াই উত্তম।


বাদাম কী ওজন কমানোর কোন গোপন রহস্য। বেশ কয়েকটি জরিপে বেশি পরিমাণ বাদাম খাওয়া (দিনে ২/৩ বার) এবং ওজন কমে যাওয়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। বেথ ইজরায়েল মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা ২০১০ সালে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ছোট একটি জরিপ পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায় নাস্তার সময় কিছু আখরোট খেলে দুপুরের খাবার সময় পেট ভরাভরা লাগে, ফলে কম খাওয়া সম্ভব হয়। ক্যালরি কম খাওয়া হলে ওজন হ্রাসে সহায়তা হয়। বাদাম খেলে যেহেতু পেট ভরাভরা লাগে, তাই তো কম ক্যালরি খাওয়ার ব্যাপারে সহায়ক হবে।

বাদামে থাকে পর্যাপ্ত চর্বি ও প্রোটিন এবং এর চর্বির প্রায় পুরোটাই অসম্পৃক্ত ধাচের অর্থাত্ স্বাস্থ্যকর। এতে ভিটামিন বেশি না পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। তাছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম সহ প্রয়োজনীয় আরো কিছু খনিজ এতে রয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ যারা করেন, তারা ক্যালরি বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বাদামের চর্বি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। বাদামে শর্করা সামান্যই আছে। ফলে বাদাম খেলে ওজন বাড়বে না।

১.৫ আউন্স বাদামে বিদ্যমান পুষ্টি (গ্রাম হিসেবে): সাধারণ বাদাম, ক্যালোরী ২৪৯ গ্রাম, ফ্যাট ২১.১ গ্রাম, প্রোটিন ১০.১ গ্রাম, পেস্তা বাদাম- ক্যালোরী ২৪৩ গ্রাম, ফ্যাট ১৯.৬ গ্রাম, প্রোটিন ৯.১ গ্রাম, বিদেশী বাদাম- ক্যালোরী ২৫৪ গ্রাম, ফ্যাট ২২.৫ গ্রাম, প্রোটিন ৯.৪ গ্রাম, বড় বাদাম- ক্যালোরী ২৭৯ গ্রাম, ফ্যাট ২৮.২ গ্রাম, প্রোটিন ৬.১ গ্রাম, কাজু বাদাম- ক্যালোরী ২৪৪ গ্রাম, ফ্যাট ১৯.৭ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৫ গ্রাম, বাদুর বাদাম- ক্যালোরী ২৭৫ গ্রাম, ফ্যাট ২৬.৫ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৪ গ্রাম, আখরোট- ক্যালোরী ২৭৮ গ্রাম, ফ্যাট ২৭.৭ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৫ গ্রাম, ম্যাকাড্যামিয়াস- ক্যালোরী ৩০৫ গ্রাম, ফ্যাট ৩২.৪ গ্রাম, প্রোটিন ৩.৩ গ্রাম, পেক্যান্স- ক্যালোরী ৩০২ গ্রাম, ফ্যাট ৩১.৬ গ্রাম, প্রোটিন ৪.০ গ্রাম।



১.দুধ-চা শরীরের জন্য উপকারী নয়। কারণ এটি পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দেয়। দুধ ও চিনিযুক্ত চা ওজন বৃদ্ধি করে।

২. শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে গেলে শরীরে কিছু কিছু রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যেমন- ক্যান্সার, স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া, স্ট্রোক এবং বন্ধ্যাত্ব।

৩. সিলেনিয়াম একটি সিনারোগ। খাদ্য তালিকায় এর অভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ঝুঁকি বেড়ে যায় যখন রক্তে এর পরিমাণ থাকে <.৮৫ টষম/সষ.

৪. তিলে ভিটামিন ‘সি’ অনুপস্থিত।

৫. দুধ ই একমাত্র ভালো প্রোটিনের উত্স নয়। এটি ক্যালসিয়ামের ভালো উত্স। দুধে ভিটামিন সি ও আয়রণ অনুপস্থিত।

৬. চায়ের মধ্যে বিদ্যমান ট্যানিন আয়রণ শোষণে বাধা দেয়। যারা রক্তস্বল্পতায় ভূগছেন তারা দুধ-চা, লিগার চা ছেড়ে দিন।

৭. আমলকি ‘ভিটামিন সি’ এর উত্কৃষ্ট উত্স। এটি ফাইবারের উত্সও বটে। তাই আমলকি খান।

৮. ক্রোমিয়ামের (পযত্ড়সরঁস) -এর অভাবে ওঞে (ওসঢ়ড়রত্বফ মষঁপড়ংব ঃড়ষবত্ধহপব) তরান্বিত হয়। খাদ্যতালিকায় দৈনিক ৭০ মি.গ্রাম ক্রোমিয়াম থাকতে হবে। লাল চালের ভাত, লাল গমের রুটিতে ক্রোমিয়াম পাওয়া যাবে। এতে ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা অনেক।

৯. সস্তায় আয়রণ জাতীয় খাবার:

(ক) সবুজ শাক + লেবু (খ) তেঁতুল (গ) হলুদ (ঘ) গুড় (ঙ) ধনিয়া পাতা (চ) টেংরা শুটকি (ছ) ছোলা (জ) কাঁচা আম (ঝ) ডাল + লেবু (ঞ) লাল গমের রুটি (ট) ফুলকপি।

কাঁচা কলাতে কোন আয়রণ নেই।

১০.বেশী মূল্যে আয়রণ জাতীয় খাবার:

(ক) মাছ (খ) মাংস (গ) ডিমের কুসুম (ঘ) কলিজা (ঙ) বেদানা (চ) খেজুর (ছ) তরমুজ।

ব্রেইন পাওয়ার


মানুষের ভালো মন্দ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, কৌশল, শারীরিক যোগ্যতা, মানসিক উন্নয়ন সব কিছুরই নিয়ন্ত্রক মস্তিষ্ক বা ব্রেইন। এই মস্তিষ্ক যিনি যতটা সক্ষম ও সচল রাখতে পারবেন তিনি ততটা বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও কৌশল দিয়ে জগতটাকে জয় করতে পারবেন। তাই মস্তিষ্ক শক্তি কিভাবে বাড়াবেন তাই নিয়ে ১৭টি টিপস এখানে তুলে ধরা হলো:
১. হঠাত্ করে উত্তেজিত হবেন না। পরিস্থিতি মূল্যায়নে যথেষ্ট সময় নিন। প্রয়োজনে সমমনাদের সঙ্গে আলাপ করুন।
২. বিষয়টি সহজ হলেও সমাধানে জটিলতা নিয়ে আগে ভাবুন।
৩. সবকিছু যুক্তি দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৫. ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
৬. প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।
৭. সবসময় হাসি-খুশি থাকুন।
৮. কাজের ভেতর থাকতে চেষ্টা করুন।
৯. পরিমিত ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
১০. অবসরে কম সাউন্ডে খানিকটা সঙ্গীত উপভোগ করুন।
১১. কোন কিছু নিয়ে বেশী ভাববেন না।
১২. দ্রুত পড়ার অভ্যাস করুন।
১৩. প্রিয় জনের নাম মনে করার চেষ্টা করুন।
১৪. প্রকৃতি নিয়ে ভাবুন।
১৫. বন্ধুদের সহায়তার চেষ্টা করুন।
১৬. সমস্যার গভীরে যাবার চেষ্টা করুন।
১৭. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।


যৌবন আর কতদিন ধরে রাখা যায়? বয়স বাডে, বুডো হতে থাকে আমরা। অনিবার্য পরিনতি জীবনের। শরীরও বদলে যেতে থাকে। সব সময় যে এই বদলানো মানে অসুখ তাতো নয়, তবে অনেকে থমকে যান এই পরিবর্তন দেখে। বুডো হওয়া তো ঠেকানো যাবে না। তবে এসব পরিবর্তন সম্বন্ধে জানলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অভ্যস্থ হলে গোটা স্বাস্থ্যের উপর এসব পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে কম।

বয়সের ছাপ পড়ে ত্বকে:

বুডো হতে থাকলে ত্বকের নমনীয়তা কমতে থাকে, পাতলা হতে থাকে ত্বক, হতে থাকে ভঙ্গুর। অল্প আঘাতে চলেক যায় ত্বক, কালশিরে পড়ে যায়, ভাঁজ পড়ে ত্বকে, বয়সের ছাপ। ত্বকে স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব কমে; তাই শুষ্ক হয় ত্বক এবং চুলকাতে থাকে মাঝে মাঝে।

হাড়, হাড়ের গিট ও পেশী:

হাড়ের ঘনত্ব হারাতে থাকে, আয়তন কুচকে যেতে থাকে, ভাঙ্গনের শিকার হয় সহসা। পেশিও কুচকে যায়, হয়ে যায় দুর্বল। স্বাভাবিক ক্ষয় হয় হাড়ের গিটের, ফুলে যায়, ব্যথা করে, নমনীয়তা যায় কমে।

সচলতা ও ভারসাম্য: বয়সের নানা পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে সফলতা ও ভারসাম্যের উপর। হাড়, হাড়ের গিট, পেশি, সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রে বুড়িয়ে যাওয়ার কারণে হয় ভারসাম্যের সমস্যা। হঠাত্ পতন ঘটে; আরো হয় ক্ষতি, কালশিরে পড়া, হাড় ভাঙ্গা হতেই পারে।

দেহের অবয়ব:হাড় ও হাড়ের গিটে বয়সের পরিবর্তন পড়ার ফলে দেহের অবয়ব খাটো হয় কিছুটা, শিরদাড়াও একটু বেকে যায়, নুয়ে যায়। পেশি হারায়, চর্বির বিপাক কমে, মেদ পুন:বিতরণ হয় পেটে ও নিতম্বে। আদর্শ দেহ ওজন বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

মুখমন্ডল: মুখেও পড়ে বয়সের ছাপ। কেবল কুঞ্চন রেখা বা বয়সের ছাপই নয়। সুখের পুরো অবয়বে হয় পরিবর্তন। মুখমন্ডলের হাড়ের আয়তন হ্রাস, মেদহ্রাস, ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শিথিল, ঝুলে পড়ে কখনও। নেমে আসে মুখ, তলাটা হয়ে ভারি।

দাঁত ও মাড়ি:দুর্বল, ভঙ্গুর ও শুষ্ক হয়ে যায় দাঁতগুলো। লালাগ্রন্থি থেকে লালা ঝরা কমে যায়। মাড়ি আলগা হয়ে যায় দাঁত থেকে। মুখগহ্বর হয় শুকনো, ক্ষয় হতে থাকে দাঁত সংক্রমণ, বদবু হয় মুখে, দন্তহানি ও মাড়ির রোগ।

চুল ও নখ: বুড়িয়ে গেলে কেশ হয় পাতলা, হয় দুর্বল। শুষ্ক চুল চুলকায় দারুন, অস্বস্তিও হয়। নখ হয় ভঙ্গুর, বেঢপ গড়ন। শুষ্ক হয় নখ, খাড়া খাড়া দাগ গড়ে নখে। পায়ের নখ পুরু হয়। নখের হয় প্রায়স; ছত্রাক সংক্রমণ।

হরমোন ও আন্ত:গ্রাবী গ্রন্থি: বয়স্কদের মধ্যে হরমোন পরিবর্তন দেখা যায় সচরাচর। বেশি দেখা যায়, রক্তের সুগারের হরমোন নিয়ন্ত্রণে ক্রটি, ফলে ডায়াবেটিস। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা এবং চর্বি ও কোলেস্টেরল বিপাকে সমস্যাও দেখা যায় প্রায়ই। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি বিপাকে ঘটে পরিবর্তন। যৌন হরমোন মান যায় কমে, নিম্নদেশের উত্থান সমস্যা, স্ত্রীযৌনি শুষ্ক হওয়া এসব বার্ধ্যক্যের অনুসঙ্গ।

স্মৃতিশক্তি:স্মৃতিশক্তির সমস্যা বুড়োদের মধ্যে বেশ দেখা যায়। তবে সামান্য স্মৃতি দুর্বল হওয়া মানে ডিমেনাশিয়া বা আল্ঝাইমার রোগ নয়। সামান্য স্মৃতি সমস্যা যেমন কোথায় চাবি রাখলাম মনে করতে না পারা, বা দরজায় তালা দিলাম কিনা মনে করতে না পারা’ স্বাভাবিক বার্ধক্যের চিহ্নও বটে।

দেহপ্রতিরোধ শক্তি: বয়সের সঙ্গে দেহ প্রতিরোধ বা ইম্যুন ব্যবস্থা দুর্বল হতে থাকে, যে রক্ত কনিকা লড়াই করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে, সেই শ্বেতকণিকারা বারবার সংক্রমণের জন্য দুর্বলই হতে থাকে।

শ্রুতিশক্তি: শ্রুতিস্নায়ুতে পরিবর্তন হয়, দুর্বল হয়ে পড়ে শ্রুতিশক্তি, বার্ধক্যজনিত শ্রুতিহানি ঘটে, উচু ফ্রিকোয়েন্সি শব্দ শোনা কঠিন হয়ে পড়ে।

দৃষ্টি শক্তি: চোখ হয়ে পড়ে শুষ্ক; লেনসের নির্ভুল কর্মদক্ষতা থাকেনা; এসব পরিবর্তে দৃষ্টি শক্তিতে ঘটে ক্রটি, ঝাপসা হতে পারে দৃষ্টি, আউট অব ফোকাস। সেজন্য চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স হতে পারে প্রয়োজন।

স্বাদ ও গন্ধ চেতনা:গন্ধ চেতনাও এমনকি স্বাদ চেতনাও একটু ফিকে হয়ে যেতে পারে, ক্ষুধাকম, ওজন হ্রাস এজন্য।

পাচকনালী ও মূত্রাশয়: এদুটোর নিয়ন্ত্রণ হতে পারে দুর্বল, এজন্য ইনকনিটনেন্স, অসংযম, মল ও মূত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খর্ব হতে পারে, অনিদ্রাসত্বেও এদের নিষ্ক্রমন ঘটতে পারে। পরিবর্তন হতে পারে মল ও মূত্রত্যাগের অভ্যাসে। কখনও কোষ্টবদ্ধতা, বারবার প্রস্রাব। প্রস্রাব সূচনায় সমস্যা।

ঘুম: বুড়িয়ে গেলে ঘুমের ধরণ বেশ পালটে যায়। ঘুমের কাল, গুণগতমান, রাতে ঘুম থেকে উঠা, বুড়োদের বেশ হয়।


গোশত প্রাণীজ প্রোটিন বা আমিষ। খাদ্য মূল্যের দিক থেকে উদ্ভিদ প্রোটিনের তুলনায় উন্নতর। গোশত সুস্বাদুও বটে। এতে সমস্ত এমাইনো এসিড বিদ্যমান। এছাড়া আছে লৌহ, ফসফরাস, ভিটামিন বি১ ও ভিটামিন বি২। গোশতের চর্বি বেশির ভাগ থাকে বাহিরের অংশে। তবে খাসীর গোশতের পরতে পরতে চর্বি বিদ্যমান। সেজন্য খাসীর গোস্তের চর্বি ছাড়ানো মুশকিল হয়ে পড়ে। কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলেও গরু ও খাসীর কলিজায় লৌহের পরিমাণও বেশি থাকে। এছাড়া মগজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ থাকে ১০০%।

দেহে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের জন্য এবং কৃশকায় লোকদের ওজন বাড়ানোর জন্য গোসত প্রয়োজন। দেহের ক্ষত, পোড়া ঘা সারানোর জন্য জিঙ্ক প্রয়োজন। এই জিঙ্ক পাওয়া যাবে গোশত থেকে। এই কারণে নিরামিষ ভোগীদের খাবারে জিঙ্কের অভাব হয়ে থাকে। আবার খেলোয়াড়দের খেলাধূলা করার সময় প্রচুর ঘাম হয়। ফলে শরীর থেকে বেশ জিঙ্ক বের হয়ে যায়। এ কারণে তাদের খাবারে গোসতের পরিমাণ বাড়ালে এর অভাব অনেকটা পূরণ হয়।

গোশতে অবস্থানকারী রোগজীবানু দেহে বিষ উত্পন্ন করে। যা ভক্ষণের ফলে রোগের সৃষ্টি হয়। এর জন্য প্রয়োজন রোগ জীবানুমুক্ত গোসত ভক্ষণ করা। রোগ জীবানু দ্বারা গোসত বিষাক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো রোগাক্রান্ত পশু জবাই করা। তাই আসছে ঈদ উপলক্ষে যারা পশু কোরবানী দিবেন তারা সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন। আবার সংরক্ষণের অজ্ঞতাও গোস্তকে দূষিত করে। যদি রান্না করা গোসত সংরক্ষণ করতে ইচ্ছা থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দেয়াই উত্তম, কারণ গোসতের মধ্যে সহজেই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। টিনিয়া সেলিনাস নামক প্যারাসাইট রেড মিটে থাকে। এটা দেহে বিশেষ এক ধরণের টিবির জন্ম দেয়। এ জাতীয় জীবানু অন্ত্র, পাকস্থলী, যকৃত প্রভৃতি জায়গায় প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। অধিক পরিমাণ অর্ধসিদ্ধ গোসতই এ ধরণের রোগের বিস্তার ঘটায়।

গোসতে ট্রাইসেরাইড, কোলেস্টেরল ও পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে বলে হূদরোগ, বাত, উচ্চ রক্তচাপ এর রোগীদের কম খাওয়া বা পরিহার করা উচিত। আবার লিভার , গলব্লাডার ও প্যানক্রিয়াসের অসুখে প্রাণীজ চর্বি বাদ দেয়াই ভালো। তাই গোসতের সংরক্ষণের সময় মনে রাখতে হবে যাতে এর স্বাভাকি স্বাদ ও গন্ধ বজায় থাকে। টুকরা বড় করলে খাদ্যমূল্যের অপচয় কম হয়। তাপে থাকমিন নষ্ট হয় ৩০% আবার রাইয়োফ্লভিন নষ্ট হয় ২০%। এদিকে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা গোসত থেকে ফিতাকৃমি হয়। এর ফলে পেট ব্যথা, খিঁচুনী, মাথা ধরা, পেট খারাপ ও জ্বর হতে পারে। দেখা যায় খাদ্য হিসেবে গোসতের স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর দু’টি দিকই রয়েছে। এই দু’দিক বিবেচনা করেই গোসত খাওয়া উচিত।

 আমরা ভুলে যাই কেন। ভুলে যাওয়ার কারণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের নেতিবাচক প্রোগ্রামিং। আমরা মনে করি, আমরা মনে রাখতে পারবো না। দ্বিতীয়ত, আমরা মন দিয়ে জিনিসটি শিখি না এবং বার বার ঝালাই করি না। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তথ্যগুলো পরবর্তীতে ব্যবহার না করলে যেকোনো পড়ার ১ দিনের মাথায়ই এর ৭৫% ভুলে যায় মানুষ। তৃতীয়ত, বিক্ষিপ্ত এবং অপ্রাসঙ্গিকভাবে শিখলে এবং টেনশন ও দুশ্চিন্তায় মন আচ্ছন্ন থাকলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেশি হয়। আর আপনার ভুলে যাওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে যেভাবে আপনি শিখেছেন ঠিক সেভাবে মনে করতে না পারা। পরীক্ষার সময় প্রশ্ন একটু ভিন্নভাবে এলে আমাদের মনে করতে যে অসুবিধা হয় তা এ কারণেই।
অথচ আমাদের সবারই মনে রাখার ক্ষমতা সমান। পার্থক্যটা হয় স্মৃতিকে চর্চা না করার ফলে। ব্রেনের এই মেমোরি ব্যাংকের কিন্তু কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। প্রতি সেকেন্ডে হাজার খানেক নতুন তথ্য গ্রহণের ক্ষমতা আছে এবং যত নতুন তথ্যই দেই না কেন সে কিন্তু ঠিকই এর জন্যে জায়গা করে দিচ্ছে।
এবার তাহলে জেনে নিন মনে রাখার ক্ষমতাকে আপনি কীভাবে বাড়াতে পারেন।
#যা আপনি মনে রাখতে চান তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন বা পড়ুন। একইসময় যদি একটা বিষয়েই মনোযোগ দেন তাহলে এটা সহজ হবে।
#আর মনোযোগহীনতার একটা বড় কারণ হলো আগ্রহের অভাব। এজন্যে মনোযোগ অধ্যায়ে দেয়া আগ্রহের টিপসগুলো পড়ুন।
#যে তথ্যগুলো মনে রাখতে চান সেগুলোকে নির্দিষ্ট করুন এবং শুধু তাতেই মনোযোগ দিন। যেমন, বইয়ের যে তথ্যগুলো আপনি নতুন দেখছেন বা কঠিন মনে হচ্ছে সেগুলোই হবে আপনার মনোযোগের বিষয়।
#একটি বিষয়কে আপনি যত ভিন্ন দৃষ্টিকোণ এবং ব্যাখ্যা থেকে বুঝবেন তত এটি আপনার মনে রাখা সহজ হবে। পুরনো জানা তথ্যের সঙ্গে মিল-অমিল চিন্তা করে ভাববেন, তত আপনার মনে থাকবে। যেমন, আপনি জানলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনকের নাম হিপোক্রেটিস। প্রথমেই আপনার মনে হলো হিপোক্রেট একটি ইংরেজি শব্দ যার অর্থ হলো ভণ্ড বা প্রতারক। কিন্তু আপনার নতুন শেখা এই নামের সঙ্গে এ অর্থের কোনো মিল নেই। বরং উল্টোটাই প্রযোজ্য। কারণ এখনও চিকিৎসকরা পাশ করার পর যে শপথ নেন তাকে বলা হয় ‘হিপোক্রেটিক ওথ’ যার বক্তব্য হলো একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি রোগীকে সাধ্যমতো নিরাময় করার চেষ্টা করবেন, রোগীর গোপন কথা প্রকাশ করবেন না এবং সৎভাবে জীবন যাপন করবেন।
#যা মনে রাখতে চান, তাকে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোয় রূপান্তরিত করুন। আংশিক না করে বিষয়টি পুরোপুরি শিখতে বা বুঝতে চেষ্টা করুন।
#মনে রাখার জন্যে প্রথমবার পড়ার ২/১ দিনের মধ্যেই পড়াকে রিভাইজ করুন। কোয়ান্টা রিডিং পদ্ধতিতে সুযোগ পেলেই চোখ বুলিয়ে নিন। এছাড়া ক্লাস শেষে নিয়মিত ক্লাসনোটে চোখ বুলান।
#মনে রাখার ক্ষেত্রে ছবির ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই কোনো জটিল বা ব্যাপক বিষয়কে ছবি, চার্ট বা ডায়াগ্রামে সাজিয়ে নিন।
এছাড়া তৈরি করতে পারেন নানা ধরনের মনে রাখার ছন্দ। যেমন, মুঘল সাম্রাজ্যের পরম্পরা বোঝাতে ‘বাবার হইল একবার জ্বর, সারিল ঔষধে’ ছড়াটি আওড়ালেই বাবর, হুমায়ূন, আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব প্রমুখ মুঘল বাদশাহদের নাম একের পর এক বলে দেয়া যায়। সুত্র- কোয়ান্টাম মেথড

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১১

মানব সভ্যতার ইতিহাসে গ্রিক সভ্যতা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে গ্রিক সভ্যতা এক উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। বিশ্ব জগৎ যখন সভ্যতার দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল, গ্রিক জাতি তখন জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে চারদিক আলোকিত করছিল। শুধু পেরিকেলস যুগে গ্রিসের এথেন্সে যেসব পণ্ডিত ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছিল বিশ্বের অন্য কোথাও একসঙ্গে একই সময় এত পণ্ডিত ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেনি। ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ভাস্কর্য, শিল্পকলা, ধর্ম, গণিত, ইতিহাস, স্থাপত্যশিল্প, চিকিৎসা বিজ্ঞান-প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের অবদান বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয়। গ্রিক পণ্ডিতদের জ্ঞানের প্রভাব সবসময় সারা বিশ্বের সব দেশ ও জাতির ওপর বিদ্যমান থাকবে। প্রাথমিক যুগে গ্রিকরা নিজেদের 'গ্রিস' বা হেল্লাস' নামে অভিহিত করত। এই গ্রিস থেকেই পরবর্তীতে ২৫ হাজার বর্গমাইল বিশিষ্ট এ দেশটির নামকরণ করা হয় গ্রিস। দেশটি ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রিকরা হেলেন নামক এক পূর্ব-পুরুষের বংশধর বলে নিজেদের হেলেনিজ এবং নিজেদের দেশকে হেল্লাস বলে ডাকত। কিন্তু পরবর্তীকালে রোমানরা তাদের দেশকে গ্রিস ও গ্রিক নামে অভিহিত করে। প্রাচীনকালে গ্রিস একটি দেশ হলেও এক রাষ্ট্র ছিল না। সে সময় সেখানে অজস্র স্বাধীন নগর রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। গ্রিসের ইতিহাস মানেই পৃথক পৃথকভাবে এ নগর রাষ্ট্রগুলো। প্রাচীন গ্রিসের এসব নগর রাষ্ট্রের মধ্যে এথেন্স, স্পার্টা, করিন্থ, থিবেস, ম্যাডিসন, আরগস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি নগর রাষ্ট্র নিজস্ব নিরাপত্তা প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। নগর রাষ্ট্রগুলোর ছিল নিজস্ব সরকার, নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যবোধ, নিজস্ব ধর্ম, নিজস্ব দেবদেবী ও নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব। নগর রাষ্ট্রগুলো ছিল আয়তনে ছোট অর্থাৎ প্রায় ১০০ বর্গমাইল এবং এগুলোর জনসংখ্যাও ছিল সীমিত। নগর রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কলহে লিপ্ত থাকত। কিন্তু যতই অন্তর্কোন্দল থাক না কেন বিদেশি শক্তিকে প্রতিরোধ করতে গ্রিকবাসী সবসময় একতাবদ্ধ থাকত। নগর রাষ্ট্রগুলোতে গ্রিকরা সুন্দর সুন্দর মন্দির নির্মাণ করতে পছন্দ করত। প্রায় প্রতিটি নগর রাষ্ট্রেই প্রথমদিকে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল; কিন্তু পরবর্তীতে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে গ্রিসের সব নগর রাষ্ট্রেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রিক সভ্যতার পতনের মূলে বেশকিছু কারণও ছিল। স্বৈরাচারী ও গণতান্ত্রিক মতবাদ নিয়ে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিবাদ-সংঘর্ষ প্রায় লেগেই থাকত। যার ফলে নগর রাষ্ট্রগুলো পতনের পথে ধাবিত হতে শুরু করে। এ পতনের আরেকটি কারণ হলো তাদের নিজস্ব অনৈক্য ও দুর্বলতা। রোম সাম্রাজ্যের অভ্যুত্থানের সময় নগর রাষ্ট্রগুলোর কলহ-বিবাদ আরও প্রকট রূপ ধারণ করে। যার ফলে রোমানরা গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলো অধিকার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠে। তাদের পতনের আরেকটি কারণ হলো পারস্য ও মেসিডোনিয়ার গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোতে আক্রমণ করা। এরপর আলেকজান্ডারের আবির্ভাবের ফলে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর কবর রচিত হয়। কিন্তু সে সময় আলেকজান্ডারের বিশ্বের সভ্য দেশগুলো অধিকার ও দখল করার ফলে বিশ্ব ইতিহাসে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়, গঠিত হয় পশ্চিম আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত। কিন্তু এত কিছুর পরও নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিতে হয় যে, আজও প্রায় সবদিক থেকেই বিশ্ব সভ্যতা গ্রিকদের কাছে চিরঋণী। বিশ্বের প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গ্রিকরা তাদের কৃতিত্ব সংযোজন করে গেছে। বিখ্যাত বীর আলেকজান্ডার, দার্শনিক সক্রেটিস, এরিস্টেটল, প্লেটো, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হেরডেটাস, বিজ্ঞানী পিথাগোরাস, আর্কিমিডিস, ইউক্লিড হিপোক্রেটস, এপেলেসের মতো গ্রিসের আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এখনো বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

ঘরোয়া দাওয়াই

প্রতিদিন একটা পাকা টমেটো খেলে শরীরের রক্তকণিকা বাড়ে, ফলে ত্বক পরিষ্কার হয়।

ছোট এলাচ, খেজুর আর আঙ্গুর একসঙ্গে পিষে মধু মিশিয়ে খেলে হাঁপানির কষ্ট।

কাঁচা হলুদ গরম করে গন্ধ শুঁকলে সর্দি-কাশিতে উপকার পাওয়া যায়।

জিভে ঘা হলে পানির সঙ্গে কর্পূর গুলে জিভ ধুলে ঘা ভালো হয়।

ডায়াবেটিস কমাতে কাঁচা ঢেঁড়স পানিতে ভিজিয়ে এর আঠালো পানি সকালে খান।

গায়ে খোস-পাঁচড়ার দাগ হলে সেই জায়গায় মাখন মালিশ করুন।

গোলমরিচ মিহি করে বেটে মধু মিশিয়ে খেলে শ্বাসকষ্ট ভালো হয়।

হাঁপানির জন্য কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়া করে আখের গুড় ও সামান্য সরিষার তেল মিশিয়ে চেটে খাবেন।

গলগণ্ড বা ঘ্যাগ

গলগণ্ড বা ঘ্যাগ হলো অস্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত থায়রয়েড গ্রন্থি। থায়রয়েড গন্থিটি গলার সামনের দিকের নিচের অংশে থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এটির অবস্থান দৃশ্যমান নয়। থায়রয়েড গ্রন্থির আকার অনেকটা প্রজাপতির মতো। দু'পক্ষের দু'টি ডানার মতো অংশ (লোব) একটি সংক্ষিপ্ত ও দেহ (ইয়ামাথ) দিয়ে সংযুক্ত থাকে। গ্রন্থিটি যখন আকার-আয়তনে বড় হয় (গলগণ্ড) তখন তা সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় এবং খাবার সময় বা কথা বলার সময় এর নড়াচড়া বিশেষভাবে বুঝা যায়। থায়রয়েড গ্রন্থি বিভিন্ন কারণে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পিটুইটারি গ্রন্থি হতে অধিকা কাজ করার নির্দেশপ্রাপ্ত হওয়া। আবার খাদ্যে আয়োডিনের অভাব থাকলেও থায়রয়েড গ্রন্থিটি ক্রমশ বড় হতে থাকবে। আয়োডিনের ঘাটতি বাদেও কিছু কিছু খাবার বেশি পরিমাণে এবং অনেকদিন ধরে খেতে থাকলেও আয়োডিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং গলগণ্ড হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে পাতাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি, সয়া জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। কিছু কিছু ওষুধও থায়রয়েড গ্রন্থি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। থায়রয়েড নড্যুল, ক্যান্সার ও হাইপো থায়রয়েডিজম ও হাইপার থায়রয়েডিজমের জন্যও গলগণ্ড হতে দেখা যায়। গলগণ্ডের লক্ষণসমূহ হঠাৎ করে শুরু হয় না বরং অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে গলগণ্ড হতে থাকে। এর প্রধানতম লক্ষণ হলো গলার সামনের দিকের মাঝখানের নিচের অংশ বা দু'পাশ ফুলে ওঠা। রোগী সাধারণত নিজে থেকে প্রথমে এ সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারে না। এটি এত ধীরে ধীরে হয় যে, অন্য কেউ বলার পরও রোগী সন্দিহান থাকতে পারে । কিন্তু তারপর দেখা যাবে এ গ্রন্থিটি ক্রমশ বৃহদাকার হয়ে যাচ্ছে। থায়রয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধিপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে খেতে বা ঢোক গিলতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গলগণ্ড খুব বড় হলে শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা হতে পারে। মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় ও গর্ভাবস্থায় গলগণ্ড সাময়িকভাবে আরও বড় হয়। হাইপার থায়রয়েডিজমের গলগণ্ডের লক্ষণগুলোর সঙ্গে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অস্থিরতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, গরম অসহ্য লাগা, হাত কাঁপা ও ডায়রিয়া থাকতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে থায়রয়েড গ্রন্থির ক্যান্সারের জন্যও গলগণ্ড দেখা দিতে পারে।

যে কোনো বয়সে থায়রয়েড ক্যান্সার হতে পারে যদিও চার দশকের কাছাকাছি বয়সে বেশি সংখ্যক রোগীকে শনাক্ত করা হচ্ছে। গলগণ্ড হয়েছে বা হচ্ছে মনে হলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। আমাদের দেশের অনেকেই এ ব্যাপারে অনীহার জন্য রোগীকে ও তার পরিবারকে যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হয়। গলগণ্ডের সম্ভাব্য রোগীকে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আলটাসনোগ্রাম থেকে শুরু করে বায়োপসি ও রেডিও অ্যাকটিভ আয়োডিন আপটেক পরীক্ষা পর্যন্ত করতে পারেন। গলগণ্ডের কারণ নির্ধারিত হওয়ার পর এর চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হয়।

Analogy বিভিন্ন দরনের যন্ত্র

Adze: কাঠমিন্ত্রী যে যন্ত্র দিয়ে কাঠ কাটে,. বাটালি
Armor: বর্ম
Auger: তুরপুর (কাঠমিন্ত্রী ছিদ্র করার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করে
Awl:সুই
AX/ Axe:কুড়াল
Baton:পুলিশের ছোট লাঠি
batter:ময়দা,ডি,দুধ, প্রভূতি দিয়ে তৈরি লেই
Bow:বেহালা বাজানোর ছড়ি
Breast PLATE:বুকে পরার বর্ম
Bridle:ঘোড়ার লাগাম
Brush:চিত্রকরের তুলি
Chisel:বাটালি
Cleaver:কসাইয়ের ছুরি
Club:গলফ খেলার ব্যাট
Gadget:ছোট খাট যন্ত্র/কলকব্জা
Gauntlet:লোহার দস্তানা
Gavel:সভাপতি/বিচারকের হাতুরী
Goggles:ধূলা হতে রক্ষাকারী কালো চশমা
Knapsack:প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহনার্থে যে থলি পিঠে বেধে নেয়া হয়
Lariat:দড়ির ফাঁস (ঘোড়া ধরা হয়)
Lasso:দড়ির ফাঁস (বন্যপ্রানী ধরা হয়)
Millstone:জাতাকলের পাথর
Oar:বৈঠা
Paddle:বৈঠা
Palette:চিত্রকরের রঙ মেশানোর জন্য ক্ষুদ্র তক্তাবিশেষ>Pestle:চূর্ণ করার যন্ত্র
Plane:রেদা
Pliers:তার বাঁকানো/কাটার জন্য সারাসি
Radar:যে যন্ত্র দিয়ে প্লেন /জাহাজের দিক ও অবস্থান নির্ণীত হয়
Rudder:জাহাজের হাল
Saddle:ঘোড়া/গাদার পৃষ্ঠে বসার জন্য গদি
Saw:করাত
Scalpel:শল্য চিকিতসকের ক্ষুদ্র ছুড়ি
Scissors:কাচি
Shears:কাঁচি
Shovel:চওড়া কোদাল জাতীয় যন্ত্র (বেলচা)
Snare:জাল/ফাদ
Thimble:সেলাইয়ের সময় সুইয়ের খোচা এড়ানোর জন্য আঙ্গুলেযে আবরণ পড়া হয়
Tourniquet বন্ধ করার জন্য যে যন্ত্রদিয়ে শিরা চেপে ধরা হয়
Transit:জরিপে ব্যবহৃত যন্ত্র
Trowel:রাজমিন্ত্রী যে যন্ত্র দিয়ে দেয়ালে প্রলেপ লাগায়
Violin:বেহালা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র
Visor: হেলমেটের যে অংশ চেহারা ঢেকে রাখে
Wrench: নাট বল্টু লাগানোর জন্য যন্ত্র

মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০১১

পায়ে পানি আসা বা পা ফুলে যাওয়া একটি খারাপ লক্ষণ। কোনো কারণে পায়ে পানি আসাকে অবহেলা করতে নেই। একসঙ্গে দুই পায়েও পানি আসতে পারে। আবার দুই পায়ে পানি না এসে এক পায়েও আসতে পারে। দুই পায়ে একসঙ্গে পানি আসা অত্যন্ত খারাপ লক্ষণ। অনেক সময় বাসে ভ্রমণ করলে অথবা বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ে পানি আসতে পারে। যদি ভ্রমণের জন্য অথবা বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য পায়ে পানি আসে তবে এতে খুব একটা ভয়ের কারণ নেই। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ে পানি আসার কারণ শনাক্ত করা উচিত। যেসব কারণে দুই পায়ে একসঙ্গে পানি আসে, তার মধ্যে অন্যতম হৃদরোগ (Heart Failure) কিডনি রোগ Renal Failure, লিভার রোগ বা Cirrhosis of Liver ফুসফুসের রোগ (Corpulmonale), হাইপোথাইরয়ডিজম। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা বা Pregnancy, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের জন্য ওষুধ সেবন (Amlodipine, Nifedipine) শরীরের ব্যথার জন্য ওষুধ সেবন (Indomethacin, Naproxen, Diclofenac Sodium) এর কারণেও পায়ে পানি আসতে পারে। অতিরিক্ত লবণ সেবনের ফলেও পায়ে পানি আসতে পারে।

এক পায়ে যেসব কারণে পানি আসে তার মধ্যে অন্যতম Filariasis ev Wucheriasis. যে কারণেই পানি আসুক না কেন পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ে পানি আসার কারণ বের করতে হবে। হৃদরোগ বা Heart Failure এর জন্য পায়ে পানি এলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে হবে। হৃদরোগের যেসব কারণে পানি আসে তার মধ্যে অন্যতম Ischaemic Heart Disease, Valvular Heart Disease. এছাড়াও জন্মগত কিছু হৃদরোগের জন্য পায়ে পানি আসতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নিউট্রিশন না পেয়ে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি যদি অক্সিজেন ও নিউট্রিশন না পায় তখন মাংসপেশিগুলো শুকিয়ে যায় এবং হৃৎপিণ্ড তখন সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হতে পারে না, তখনই তাকে হার্ট ফেইলিওর বলে। ফলে পায়ে পানি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

বর্তমানে এর চিকিৎসা হিসেবে আধুনিক অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। হৃদরোগের জন্য পায়ে পানি এলে সঙ্গে সঙ্গে রোগীর শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়পড় এমনকি রোগী চিৎ হয়ে ঘুমাতে পারে না, সবসময় মৃত্যু ভয় জেগে থাকে। পায়ে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ে পানি আসার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

'হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে

'হাল ছেড়ো না বন্ধু বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে...' হ্যাঁ, জোরে কণ্ঠ ছাড়তে ছাড়তে এক সময় ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে, ভেঙে যেতে পারে কণ্ঠস্বর। কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া কোনো কাক্সিক্ষত বিষয় নয়। কণ্ঠস্বর বিকৃতি কিংবা নষ্ট হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। মূলত স্বরধ্বনি শ্বাসযন্ত্রের যে অংশ থেকে তৈরি হয় সেখানকার বিভিন্ন অসুখের সূচনাতেই স্বরভঙ্গ ঘটে কিংবা কণ্ঠস্বর ভেঙে যায়। সাধারণ সর্দি-কাশি কিংবা বেশি কথা বললে যেমন গলা বসে যায়, তেমনি ল্যারিংস বা শ্বাসনালীর সবচেয়ে উপরের অংশে ক্যান্সারের সূচনাতেও গলার স্বর পরিবর্তিত হয়।

কণ্ঠস্বরজনিত সমস্যা মানেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যার সূচনাস্থল হলো ভোকাল কর্ডের প্রকম্পিত প্রান্তদেশ। বিশেষ করে ভোকাল কর্ডের আবরণী ঝিলির আঘাতজনিত প্রদাহই বেশি হয়ে থাকে। ভোকাল কর্ড পরস্পর প্রতি সেকেন্ডের বিপুল ঘর্ষণে জর্জরিত হয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভোকাল কর্ডের ঝিলি্লর এই আঘাতের ফলাফলকে ত্বকের ফোস্কা কিংবা গোটার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এগুলো ক্যান্সার জাতীয় কোনো সমস্যা নয়, ক্ষতিকর নয় এমন ধরনের সমস্যা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যেতে পারে_ বেনাইন মিউকোসাল ডিসঅর্ডার বা ঝিলি্লর নির্দোষ ধরনের অস্বাভাবিকতা। এ ধরনের সমস্যা যেহেতু ক্যান্সার নয়, তাই মন্দের ভালো বলা যায়। সাধারণভাবে বলতে গেলে এ ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে ভোকাল কর্ড নোডিউল, সিঙ্গারস নোডিউল (সংগীতশিল্পীদের নোডিউল), ভোকাল কর্ড পলিপ। সাধারণত ভোকাল কর্ডের পরিবর্তন সেরে ওঠার পর বার বার হতে থাকলে কর্ডের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়।

এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে_ * ভোকাল কর্ডের নডিউল বা দানা। * ভোকাল কর্ডে পলিপ বা ছোট্ট থলির মতো পিণ্ড * ভোকাল কর্ডে সিস্ট বা পািন ভর্তি ছোট থলির সৃষ্টি হওয়া। * ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যাওয়া।

ভোকাল কর্ডের সমস্যা নির্ণয়ে করণীয় : ভোকাল কর্ডের সমস্যা একটি কিংবা উভয় ভোকাল কর্ডে হতে পারে। স্বর সৃষ্টির সময় ভোকাল কর্ডের যে অংশ সবচেয়ে বেশি পরস্পরের সংস্পর্শে আসে সেই স্থানটিই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোকাল কর্ড সরল রেখায় অবস্থান করে না, কিছুটা বাঁকা হয়ে থাকে। তাই স্বরের মাত্রা অনুযায়ী এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একইভাবে অবস্থারও উন্নতি ঘটে। ভোকাল কর্ডের সমস্যা নির্ণয়ে রোগীর ইতিহাস নিয়ে ভোকাল কর্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রতিকার

কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ : চিকিৎসা শুরু হবে সমস্যা অনুযায়ী। গলার স্বর ভেঙে গেলে প্রথমেই কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। কথা বলা বন্ধ করার মাধ্যমেই দুই ভোকাল কর্ডের মধ্যকার ঘর্ষণ এড়ানো সম্ভব হবে। এ সময়ে লিখে লিখে কিংবা ইশারায় কথার কাজটি সারতে হবে। রোগীকে এ সময় কলিংবেল ব্যবহার করতে হবে কাউকে ডাকার জন্য। অন্তত এক সপ্তাহ সম্পূর্ণভাবে কথা বন্ধ রাখতে হবে।

ঊর্ধ্বশ্বাসনালীর সংক্রমণ : যেহেতু ঊর্ধ্বশ্বাসনালীর প্রদাহের কারণে অনেক সময় গলা ভেঙে যায়, এ কারণে যথাযথ এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে চিকিৎসা করতে হবে। সেই সঙ্গে এন্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধও গ্রহণ করতে হবে।

শ্বাসনালীতে বাষ্প প্রবাহ : স্বরনালী তথা ভোকাল কর্ডকে বাষ্পস্নাত করতে বাষ্প প্রবাহ শ্বাসের সঙ্গে টানা যেতে পারে। এতে ভোকাল কর্ডের শুষ্কতা দূর হয়ে ভোকাল কর্ড কিছুটা আর্দ্রতা পাবে। একটি বাটিতে এক লিটার গরম পানি নিয়ে সেই পানিতে এক চিমটি ম্যানথলের দানা দিয়ে তারপর বাষ্পটুকু শ্বাসের সঙ্গে নিতে হবে।

গলার স্বরভাঙাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না। চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কী করবেন :

কী করবেন : ওয়ান ওয়ে রাস্তায় হাঁটতে যেদিক থেকে গাড়ি আসছে সেই দিকে মুখ করে হাঁটুন এবং ফুটপাত ব্যবহার করুন। * রাস্তা পার হতে ডান দিক, বাঁ-দিক, আবার ডান দিক দেখে রাস্তা পার হোন। * দ্রুত রাস্তা পার হবেন, তবে দৌড়ে নয়। * ছাতা নিয়ে হাঁটলে যাতে রাস্তা দেখতে পান সেদিকে খেয়াল রাখুন। * রাস্তা পার হওয়ার সময় কারও ওপর নির্ভর করবেন না। * রাস্তা পারাপারে সচেতন থাকুন। এলোমেলোভাবে রাস্তা পার হবেন না। * কোনো বাঁকের মুখে সাবধান থাকুন। গাড়ির হর্ন শুনে বুঝে নিন গাড়ি কত দূরে। * রাস্তা পার হতে না হলে অযথা পার হওয়ার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবেন না। * সিগন্যাল দেখে পার হবেন। * কোনো বয়স্ক কেউ রাস্তা পার হতে বা পথে চলতে গিয়ে আপনার সাহায্য চাইলে সাহায্য করুন। * জেব্রা ক্রসিংয়ে রাস্তা পার হওয়া সব থেকে ভালো। নিয়ম মেনে চলুন। * নিজের পোশাক সম্পর্কে সচেতন থাকুন। পথ চলতে কোনো কিছুতে যেন আটকে না যায়। * পর্যাপ্ত আলো আছে এমন জায়গা দিয়ে হাঁটুন। * অনেক ব্যাগ বা জিনিস নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে নিজের জিনিসপত্রের প্রতি সচেতন থাকুন। * সেল ফোনে আস্তে কথা বলুন, অথবা বলুন যে পরে কথা বলবেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় সেল ফোনে কথা বলবেন না।

কী করবেন না : রাস্তায় চলতে হঠাৎ চেনা কাউকে দেখলে উচ্ছ্বাসে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হবেন না। * আপনি যদি খুব দ্রুত হাঁটতে না পারেন তবে ভিড়ের ভেতর দ্রুত হাঁটতে যাবেন না। * গাড়ির সিগন্যাল ছেড়ে দিলে দৌড়ে পার হবেন না। * একসঙ্গে দু'তিনজন চেনা বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে থাকলে খুব জোরে জোরে কথা বলবেন না।

কী ঘটে : লাল আলো জ্বললেও 'ধুর, কিচ্ছু হবে না'_ মানসিকতায় এক দৌড়ে রাস্তা পার হওয়াটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ওভার ব্রিজ বা আন্ডার পাস থাকলেও এত কষ্ট করে রাস্তায় হাঁটা বা রাস্তা পার হওয়া যায় নাকি? এর চেয়ে এমনি হেঁটে পার হওয়াই ভালো! ব্যস্ত রাস্তায় বন্ধুরা মিলে হাঁটছেন। গল্পের মুড। অন্যের গতির সঙ্গে আপনাদের গতি 'ম্যাচ' হচ্ছে না। ফলে ধাক্কাধাক্কি চলছেই। জনজটে আপনার খুব তাড়া অন্যকে ধাক্কা মেরে, ঠেলা দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। অন্যরা ধাক্কা খাচ্ছে তো কী করা যাবে। যে রাস্তায় হাঁটতে বারণ সেই রাস্তা আর ফুটপাত থাকলেও মেইন রোডে হাঁটা একটা সাধারণ ব্যাপার। এতে কোনো ভুল আছে বলে মনেই হয় না। চকলেট বা চিপস খেয়ে কাগজটা অবলীলায় রাস্তায় ফেললেন। রাস্তা নোংরা হচ্ছে তো হোক না! রাস্তায় অনেকেরই অভ্যাস আছে থুথু ফেলা। সেটা দেখতেও খারাপ লাগে। সেল ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটা আর একটু অন্যমনস্ক হলেই একটা জোরে ধাক্কা সামনের কারও সঙ্গে! না হলেও ফোনের দিকে মন আর আচমকা কোনো গাড়ির সামনে পড়ে যাওয়া। প্রাণ নিয়ে টানাটানি! এই আরকি।

কী ঘটা উচিত : একসঙ্গে অনেকে হাঁটলেও ব্যস্ত রাস্তায় নিজের খেয়ালে হাঁটা উচিত নয়। সব সময় সচেতন থাকা উচিত। সব সময় ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে পথ চলা উচিত।

আপনি বা আপনাদের কয়েকজনের গল্পের মুডে থাকতে পারেন তাই বলে অন্যদের দিকটাও খেয়াল রাখা উচিত।

প্রপার সিগন্যাল জানা সবারই উচিত। চকলেট বা খাবার খেয়ে কাগজ কখনো রাস্তায় ফেলবেন না। ফোনে কথা বলতে বলতে না হাঁটাই ভালো।

দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শিতা।

আলো ঝলমলে সুখের দিনে মনের কোণে জমে থাকা মেঘলা আকাশ ছায়া ফেলতে পারে নিত্যদিনের চলার পথে। পেশাগত জীবনের এই প্রতিনিয়ত পরিবর্তনে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলতে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শিতা
আমরা মনে যা ভাবছি তার ওপর নির্ভর করে আমাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ এমনকি বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া হয় বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ধরা যাক কারও ব্যবহারে আপনি খুব অপমানবোধ করেছেন; সারাদিন সেই অপমানবোধই আপনার মধ্যে জাগিয়ে তুলছে রাগ, বিদ্বেষ, সন্দেহের মতো নানা খারাপ অনুভূতি। দিনের শেষে হয়তো দেখা গেল অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং নিজেকে আরও সমস্যার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ঠিক এ সময় কাজ দেবে পজিটিভ থিঙ্কিং। জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, প্রতিকূলতার মধ্যে এই পজিটিভ আউটলুকই ফিরিয়ে আনতে পারে আশা, আনন্দ এবং স্বস্তি। এ জন্য প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শিতা।

নিজের চিন্তাভাবনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনুন। কোনো মন্তব্য বা ঘটনা আপনার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার আগেই সেটা মনে মনে একবার কাটাছেঁড়া করে নিন। ঠিক যে কথা বা ঘটনা আপনার মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করছে সেটাকে যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। যদি আপনার কোনো দোষ থেকে থাকে তাহলে সেটিকে একটা টার্নিং হিসেবে নিন, যাতে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়। যদি আপনার আদৌ কোনো ভুল না হয়ে থাকে তাহলে অন্তত নিজের কাছে নিজে পরিষ্কার আছেন জেনে নিশ্চিন্তে থাকুন। অপরের ভুলের জন্য নিজের মনকে কলুষিত করা কোনো কাজের কথা নয়। বন্ধু বা কলিগদের মধ্যে যারা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত, তাদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের থেকে পরামর্শ চান। এরা আপনার কর্মক্ষমতা বাড়াবে, সাহস দেবে এবং জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। যারা নেগেটিভ টেম্পারমেন্টের মানুষ অথবা সবকিছুর অহেতুক সমালোচনা করেন, অন্যের সাফল্য সন্দেহের চোখে দেখেন তাদের এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে নিজে বলুন, আমি ভালো আছি। আমি ভালো থাকব। দৃঢ় বিশ্বাস এবং ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে বলা এই কথাগুলো আপনাকে নতুন সাহস জোগাতে সাহায্য করবে। এছাড়া 'আমার কপালটাই খারাপ বা আমার দ্বারা কিছু হবে না' এ জাতীয় মন্তব্য করা বন্ধ করে দিন। বরং এ কাজটা শক্ত কিন্তু আমি পারব এ চিন্তাটাই মনে গেঁথে নিন।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সেলফ ইমপ্রুভমেন্ট বা পার্সোনালিটি ডেভেলপমেন্টের বইও দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে। নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন। সাংসারিক কাজকর্মই হোক বা ক্যারিয়ার_ সব ব্যাপারেই একটা খসড়া পরিকল্পনা থাকা খুবই জরুরি। প্রতিদিন না হোক সপ্তাহের শুরুতে বাড়ির কাজ আর অফিসের কাজের দুটি আলাদা আলাদা চেকলিস্ট বানিয়ে নিন। এক একটা কাজ শেষ হলেই লাল পেনসিল দিয়ে কেটে দিন। সব কাজ ঠিকমতো শেষ হলে নিজেকেই ছোট একটা প্রাইজ দিন। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করতে করতে আত্মবিশ্বাস থেকেই গড়ে উঠবে পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা। সারাদিনে যা করেছেন তা দিনের শেষে মনে করুন। কোন কাজটি পারেননি, সেটা নিয়ে চিন্তা না করে যেখানে সাফল্য পেয়েছেন সেটা নিয়ে ভাবুন। যে কারণে সফল হয়েছেন সেটা অন্যান্য কাজে প্রয়োগ করুন। দেখবেন নতুন কাজের উৎসাহ বাড়বে। ক্যারিয়ার দৌড়ে এসব গুণ আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মোগল আমলের নহর

প্রথমদিকের মোগল উদ্যানগুলোতে নহরের সংখ্যা বেশি থাকতো। তবে সেগুলো হতো সরু। পরবর্তী পর্যায়ে নহরের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং তা অনেক বেশি প্রশস্থ হয়। পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সঠিক রাখার জন্য মোগল বাগানগুলো হতো ক্রমশ ঢালু। মোগল উদ্যানগুলো হতো বর্গাকার বা আয়তাকার। আর সেগুলোকে সাধারণত ৪টি ভাগে ভাগ করা হতো। ইরানের 'চার-বাগ' তত্ত্বকে এখানে বাস্তব রূপ দেওয়া হতো। তবে রাস্তাগুলো থাকতো পুরোপুরি সোজা। এতে কোনো আঁকা-বাঁকা পথ থাকতো না। বাগানের চারদিকে থাকতো দেয়াল এবং তাতে বিশাল বিশাল প্রবেশ পথ থাকতো।

প্রবেশ পথও থাকতো নানাভাবে নানা মর্যাদার। মোগলদের উদ্যানকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়- প্রাসাদ উদ্যান, সমাধি উদ্যান, বিনোদন উদ্যান এবং অবকাশ যাপন উদ্যান। মোগল সম্রাটরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে যেতে অনেক বিনোদন বা অবকাশ যাপন উদ্যান তৈরি করে ফেলেছিল। সফর পথে কোথাও যদি তারা কয়েক দিনের জন্য থামতো বা সভা বসাতো, তখন সেখানে বাগান করে ফেলতো। প্রকৃতির প্রতি মোগলদের ভালোবাসা এত গভীর ছিল যে, তারা সাধারণ মানুষদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দিত এবং গাছ লাগানোকে তারা ইবাদত মনে করতো। ফলে পথিকদের ছায়াদানের জন্য সড়ক-মহাসড়কের ধারেও অসংখ্য গাছ লাগানো হয়েছে সে সময়।
পৃথিবীতে যতগুলো স্বায়ত্তশাসিত উপদ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে ফিলিপাইনের মিন্দানাও অন্যতম। ফিলিপাইনের অদূরে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে মিন্দানাও দ্বীপটি অবস্থিত। ১৫০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত এই দ্বীপে কোনো লোকবসতি ছিল না। ১৫০০ সালের পর যখন ফিলিপাইনের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে তখন ফিলিপাইন সরকার মিন্দানাও দ্বীপে লোক পাঠাতে শুরু করে এবং সেখানে তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এভাবে ক্রমে মিন্দানাও দ্বীপে লোকবসতি বিস্তার লাভ করে। মিন্দানাও দ্বীপটির চতুর্দিকে পানি আর পানি, কখনো কখনো সামুদ্রিক ঢেউয়ে সংকুচিত হয় দ্বীপটি। রহস্যঘেরা দ্বীপটিতে রয়েছে অসংখ্য মসজিদ, গির্জা ও মন্দির। মিন্দানাও দ্বীপে যারা বসবাস করে তাদের অধিকাংশই মুসলমান। শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এ দ্বীপটি পর্যটন-শিল্পের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর জাহাজে করে শত শত পর্যটক ঘুরতে আসে মিন্দানাও দ্বীপে। এর চতুর্দিকে সামুদ্রিক পানির গর্জন, বালুময় উপকূল, অতিথি পাখির কিচির-মিচির শব্দ, মনমাতানো নৈসর্গিক দৃশ্য পর্যটক মাত্রই আকর্ষণ করে। মিন্দানাও দ্বীপের অধিকাংশ মুসলিম। ১৯৭২ সালে ফিলিপাইনের স্বৈরশাসক ফার্ডিনান্ড মার্কোস ক্ষমতায় এসে মুসলমানদের ওপর দমন-নিপীড়ন শুরু করেন। সেই থেকে মিন্দানাওবাসী একত্রিত হয়ে স্বায়ত্তশাসন দাবি করে এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সরকারবিরোধী গেরিলা আন্দোলন শুরু করে। এতে ফিলিপাইন সরকার ও মিন্দানাওবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার লোক হতাহত হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর পর কেন্দ্রীয় সরকার স্বায়ত্তশাসন দিতে রাজি হয়। বর্তমান মিন্দানাও একটি স্বায়ত্তশাসিত উপদ্বীপ। স্বায়ত্তশাসিত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব রয়েছে মিন্দানাওবাসীর ওপর। যে কোনো সমস্যায় কেন্দ্রীয় সরকার মিন্দানাওবাসীকে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য জাতীয় সমস্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার শুধু সহায়তা করে না বরং সহায়তা গ্রহণও করে। প্রতি বছর পর্যটনশিল্প থেকে যে আয় হয় তার ৫০ ভাগ লুফে নেয় ফিলিপাইন সরকার।

remix

টেলিফোনের আবিষ্কর্তা আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল যখন তার গবেষণাগারে বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধানে মগ্ন থাকতেন, তখন তিনি একটি তোয়ালে দিয়ে তার টেলিফোনটি জড়িয়ে রাখতেন। এরূপ করার কারণ ছিল টেলিফোনটি তার কাজে যাতে গোলমাল সৃষ্টি না করে।

*কুম্ভীরাশ্রু মানে কপট শোক। কোনো কোনো দেশে প্রবাদ আছে, কুমির শিকারকে খাওয়ার সময় চোখের জল ফেলতে থাকে, তা থেকেই 'কুম্ভীরাশ্রু' কথাটার উৎপত্তি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, কুমিরের কোনো অশ্রুনালী নেই সে জন্য তারা কাঁদতে পারে না। কিন্তু তারা যখন খুব বড় কোনো শিকারকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা করে তখন তাদের চোখ দিয়ে একপ্রকার জলের মতো তরল পদার্থ বের হয়।

*বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের চোখের পেশিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল। পেশিগুলো মাত্র একদিন পড়ার কাজে চোখকে গড়পড়তা এক লাখ বারেরও বেশি নাড়ায়। প্রয়োজনের তুলনায় চোখের পেশিগুলি প্রায় একশ গুণ বেশি শক্তিশালী।

*মিসরের মেমফিসের অন্তর্গত ধাপকাটা জোসার পিরামিড প্রায় ৫,০০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। পৃথিবীর মধ্যে এটাই সবচেয়ে পুরনো সৌধ।

*গ্রীষ্মকালে বাতাসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুকণা ভেসে বেড়ায়। এগুলো এতই ক্ষুদ্র যে, খালি চোখে দেখা যায় না। এই বস্তুকণাগুলোর অধিকাংশই হচ্ছে উদ্ভিদের পরাগরেণু। এর মধ্যে কতকগুলো বস্তুকণা অনেকের শরীরে নানারকম ব্যাধির সৃষ্টি করে। তবে একদিক থেকে এগুলো জীবন-প্রবাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্রস্বরূপ। পরাগ-নিষেক ক্রিয়ার দ্বারাই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। পরাগ-রেণুর সাহায্য না পেলে সপুষ্পক উদ্ভিদ পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।

*কয়ার ফড়িং বা পঙ্গপালের লাফিয়ে চলার ক্ষমতা অসাধারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে এরা যে পেশির সাহায্যে প্রচণ্ড গতিতে লাফায় তার ক্ষমতা মানুষ যে সব পেশির সাহায্যে খুব তাড়াতাড়ি কাজকর্ম করে তার তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি। ঝিনুক জাতীয় প্রাণী ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীর পেশির এরূপ ক্ষমতা নেই।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১

মৃত ব্যক্তির ওপর প্রতিহিংসা

ইসলামে মৃত ব্যক্তির ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা বা ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো মুসলমান মারা গেলে তাকে সম্মানের সঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করাই ইসলামী বিধান। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিদের গালমন্দ কর না। কারণ তারা যা করেছে তার প্রতিফল পাওয়ার স্থানে পেঁৗছে গেছে। (বুখারি ১৩১১ ও ৬০৬৬)
কারও মৃত্যুর পর তাকে মন্দ বলা ও গালিগালাজ করা জায়েজ নয়। সে যেসব খারাপ কাজ করেছে তার প্রতিফল আল্লাহর কাছে ভোগ করছে অথবা তিনি তার প্রতি দয়াপরবশ হয়েছেন।
মৃত ব্যক্তিকে গালি দিয়ে নিজের আমলনামা কালো করা উচিত বলে বিবেচিত হবে না। জাহেলিয়ার যুগে মৃত ব্যক্তির নিন্দা চর্চা এমনকি তার ওপর প্রতিহিংসাপরায়ণতার চর্চা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘৃণ্য চর্চার অবসান ঘটান। হজরত যুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে (অজ্ঞাতসারে) আগেকার জাতিসমূহের রোগ, অর্থাৎ হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সংক্রমিত হয়ে গেছে। এসব রোগ ন্যাড়া করে দেয়। আমার কথার অর্থ এই নয় যে, তা চুল ন্যাড়া করে দেয়, বরং দীনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। (মুসনাদে আহমাদ থেকে মিশকাতে)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাক। কেননা হিংসা মানুষের ভালো গুণসমূহ এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমনিভাবে আগুন শুকনো কাঠ জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। (আবু দাউদ থেকে মিশকাতে)
শুধু মৃত ব্যক্তি নয়, সাধারণভাবে এক মানুষ অপর মানুষের প্রতি হিংসা বিদ্বেষের মনোভাব দেখাক তা ইসলামে কাম্য নয়। এ ধরনের মনোভাব সামাজিক শান্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
হজরত আবু আইউব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, দুজন মুখোমুখি হলে একজন এদিকে এবং অপরজন ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়। দুজনের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে প্রথমে সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু করে। (বুখারি ও মুসলিম থেকে মিশকাতে)
অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আল বাদিউ বিস-সালাম বারিউম-মিনাল কিবরে'। অর্থাৎ প্রথমে সালাম উচ্চারণকারী অহঙ্কার থেকে মুক্ত।
উপরোক্ত দুটি হাদিসে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, অপর মানুষের প্রতি সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ককেই ইসলাম গুরুত্ব দেয়। মৃত বা জীবিত কারও প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা ইসলামী দৃষ্টিতে পরিত্যাজ্য।


An African, An Asian and a European - on the committee.

a. is b. are c. be d. being

2. a. The rich is happy.

b. The rich men are happy.

c. The rich are happy.

d. The rich men is happy.

3. The arabian neights - still a famous book.

a. are b. is c. be d. being

4. Statistics - that about 350 million people speak english as a first language.

a. shows b. show

c. is showing d. are showing

5. Dr. Shamsuzzoha�s politic -- different from other politicians.

a. are b. is c. be d. been

6. The economics of Bangladesh - very deplorable.

a. is b. be c. are d. been

7. Two and two - four.

a. is b. are c. makes d. a + c

8. Each boy and each girl - given a prize yesterday.

a. is b. are c. were d. was

9. The flock of birds - overhead.

a. circle b. circles

c. is circling d. are circling

10. The jury - in the same opinion.

a. be b. being

c. was d. were

11. The jury - divided in their opinions.

a. be b. being

c. was d. were

12. The majority - that he is an honest man.

a. believes b. believe

c. is believing d. are believing

13. The majority of the students - that he is an honest man.

a. believes b. believe

c. is believing d. are believing

14. a. The pant is in the drawer.

b. The pants is in the drawer.

c. The pants are in the drawer.

d. The pant are in the drawer.

15. Rana with his brothers - done the work.

a. is b. are

c. has been d. has

16. Not only you but also your brother - done the work.

a. is b. are c. has d. have



Answer : 1.a 2.c 3.c 4.b 5.a 6.c 7.b 8.b 9.c 10.c 11.d 12.a 13.b 14.c 15.b 16.c

হৃদরোগ

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পৃথিবীর মোট মৃত্যুর ২৯ শতাংশ হচ্ছে হার্টঅ্যাটাকে। ব্রিটিশ কার্ডিয়াক সোসাইটির মুখপত্র 'হার্ট'-এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের মোট হৃদরোগীর ৬০ ভাগই ভারত উপমহাদেশের। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনপদ্ধতি বদলেও হৃদরোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব। যদিও চিকিৎসকদের কেউ কেউ লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে বিনা অপারেশনে হৃদরোগ মুক্তির বিষয়টিকে মেনে নিতে চান না। হার্টের চিকিৎসার পুরনো ধারণা ও পদ্ধতিরও স্থান দখল করে নিচ্ছে আধুনিকতম ধারণা এবং পদ্ধতি। এই ধারাবাহিকতায় হৃদরোগ চিকিৎসার একটি আধুনিক পদ্ধতি পদ্ধতি হচ্ছে EECP বা নেচারাল বাইপাস। EECP/BCA সার্বিক (Systemic) চিকিৎসা কোনো বিশেষ স্থানের নয়, সমস্ত শরীরের যেখানে যেখানে ব্লক সেখানে সেখানে কাজ করে। বাংলাদেশে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, সাওল হার্ট সেন্টার, দি মেডিক্যাল সেন্টার, হলিস্টিক হেলথ্্ কেয়ার সেন্টার, মেডিকেয়ারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে EECP পদ্ধতিতে হৃদরোগের চিকিৎসা হচ্ছে। হৃদরোগীদের সুস্থ হওয়ার মূলে রয়েছে_ জীবনপদ্ধতি বদলে নেয়া, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রম করা। সাওল সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করায়। প্রয়োজন হচ্ছে মানুষকে রোগ এবং রোগ থেকে সুস্থ থাকার জ্ঞান দেওয়া ও সচেতন করে তোলা। যারা বলছেন, 'বাইপাস অথবা স্ট্যান্টিংয়ের কোনো বিকল্প নেই' তাদের সামনে আমরা কয়েক হাজার রোগী উপস্থিত করতে পারব যারা অপারেশন ছাড়াই, স্ট্যান্টিং না করেই, ইইসিপি, বায়োকেমিক্যাল এনজিওপ্লাস্টি চিকিৎসার সঙ্গে লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। 'বাইপাস অথবা স্ট্যান্টিংয়ের বিকল্প নেই' এর বিপক্ষে ইতোমধ্যে ডা. ছাজেড় বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিতর্কে অবতীর্ণ হয়েছেন। দর্শক-শ্রোতা অধিকাংশই ডা. ছাজেড়ের পক্ষে গেছেন। সাওলের প্রতিটি ক্যাম্পে শত শত মানুষের অংশগ্রহণ এবং সাওলপদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কয়েক হাজার হৃদরোগী সুস্থ হয়ে ওঠা-ই তা প্রমাণ করে লাইফ স্টাইল বদলে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হৃদরোগ থেকে সুস্থতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন_ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পপতি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

সাধারণ বিজ্ঞান

১. কার্বোহাইড্রেট-এর কাজ-
ক. তাপশক্তি উৎপাদন
খ. দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য সম্পাদন
গ. দেহ গঠন ঘ. হিমোগ্লোবিন তৈরি করা
২. ভিটামিন 'সি' এর অভাবে যে রোগ হয়_
ক. ইনফ্লুয়েঞ্জা খ. অ্যানিমিয়া
গ. চর্মরোগ ঘ. গলগণ্ড
৩. কোনটি রাফেজযুক্ত খাদ্য?
ক. ঘি খ. চিনি গ. চাল ঘ. ফলমূল
৪. কোন খাদ্যের প্রধান অংশ শর্করা?
ক. আলু খ. পেয়ারা
গ. সরিষা ঘ. ইলিশ মাছ
৫. একজন পূর্ণ বয়স্ক সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে কতবার?
ক. ৭২ খ. ৭৫ গ. ৮০ ঘ. ৮২
৬. মানুষের দেহের বৃদ্ধি ঘটে কত বছর পর্যন্ত?
ক. ১০ খ. ২০ গ. ২৫ ঘ. ৩০
৭. নিচের কোনো খাদ্যে পর্যাপ্ত আমিষ নেই?
ক. মাছ খ. কলা গ. ডাল ঘ. দুধ
৮. কোরাশিয়রকর রোগ হয়_
ক. আমিষের স্বল্পতার কারণে
খ. ভিটামিনের অভাবে
গ. খনিজ লবণের অভাবে
ঘ. শর্করার অভাবে
৯. একজন পূর্ণ বয়স্ক সুস্থ পুরুষ মানুষের দৈনিক আমিষের প্রয়োজন_
ক. ৪০-৫০ গ্রাম খ. ৫৫ গ্রাম
গ. ৬৫ গ্রাম ঘ. ১০০ গ্রাম
১০. কোনটির অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
ক. ভিটামিন-এ খ. ভিটামিন বি২
গ. ভিটামিন-বি১২ ঘ. ভিটামিন-সি
১১. গ্লাইকোজেন কোন ধরনের শর্করা?
ক. ম্যানোস্যাকারাইড খ. ডাইস্যাকারাইড
গ. পলিস্যাকারাইড ঘ. সুক্রোজ
১২. 'থায়ামিন' এর বেশি ঘাটতি হলে কোনো রোগ হয়?
ক. স্কার্ভি খ. রিকেটস
গ. অস্টিয়োম্যালেসিয়া ঘ. বেরিবেরি
১৩. একজন পূর্ণ বয়স্ক কর্মক্ষম নারীর দৈনিক কত গ্রাম আমিষের প্রয়োজন?
ক. ৫০ গ্রাম খ. ৫৫ গ্রাম
গ. ৬০ গ্রাম ঘ. ৬৫ গ্রাম
১৪. আয়োডিনের ঘাটতি হলে দেহে কী রোগ হয়?
ক. অ্যানিমিয়া খ. গলগণ্ড
গ. স্কার্ভি ঘ. রিকেটস
১৫. কোন খাদ্যটির প্রধান অংশ শর্করা?
ক. সরিষা খ. ইলিশ মাছ
গ. পেয়ারা ঘ. আলু
১৬. খাদ্যে শর্করার অভাব হলে দেহে কর্মশক্তি উৎপন্ন করে_
ক. অক্সিজেন খ. মনোস্যোকারাইড
গ. হাইড্রোজেন ঘ. গ্লাইকোজেন
১৭. কোনটি মনোস্যাকারাইড?
ক. গ্লাইকোজেন খ. ফ্রুকটোজ
গ. নিকোটজ ঘ. সুক্রোজ
১৮. শর্করার অভাবে শরীরে কী জাতীয় রোগ সৃষ্টি হয়?
ক. কিটোসিস রোগ খ. চর্ম রোগ
গ. স্কার্ভি রোগ ঘ. কোয়াশিয়রকর রোগ
১৯. কোন রোগের ফলে শিশুদের অস্থি বাঁকা হয়ে যায়?
ক. টাইফয়েড খ. হুপিং কাশি
গ. রিকেটস ঘ. যক্ষ্মা
২০. ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে কী রোগের সৃষ্টি হয়?
ক. রিকেটস খ. স্কার্ভি
গ. কাশি ঘ. কিটোসিস
২১. প্রাণিদেহের শতকরা কতভাগ পানি?
ক. ৫০-৫৫% খ. ৬০-৭৫%
গ. ৮০-৯০% ঘ. ৯৫-১০০%
২২. নিচের কোন রোগটি শর্করার অভাবে হয়?
ক. ম্যারাসমাস খ. কিটোসিস
গ. বেরিবেরি ঘ. স্কার্ভি
২৩. প্রোটিনের মূল উপাদান কোনটি?
ক. অক্সিজেন খ. হাইড্রোজেন
গ. কার্বন ঘ. নাইট্রোজেন
২৪. কোন ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
ক. এ খ. বি গ. ডি ঘ. সি
২৫. কোন খাদ্যের অভাবে ম্যারাসমাস রোগ হয়?
ক. ভিটামিনের খ. স্নেহের
গ. আমিষের ঘ. লবণের
২৬. গ্লাইকোজেন কোথায় সঞ্চিত থাকে?
ক. পিত্তথলিতে খ. অগ্ন্যাশয়ে
গ. পাকস্থলিতে ঘ. যকৃতে
২৭. গ্লাইকোজেন কোন ধরনের শর্করা?
ক. পলিস্যাকারাইড খ. ডাইস্যাকারাইড
গ. ট্রাইস্যাকারাইড ঘ. মনোস্যাকারাইড
২৮. লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোনটি?
ক. ভিটামিন বি-৬
খ. ভিটামিন বি-১
গ. ভিটামিন বি-১২
ঘ. ভিটামিন বি-২
২৯. ভিটামিন 'এ' কোনটিতে অনুপস্থিত?
ক. ডিমের কুসুম খ. শিমের বিচি
গ. গাজর ঘ. মাছের তেল
৩০. কোনটির অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়?
ক. আয়োডিন খ. খনিজ লবণ
গ. সুষম খাদ্য ঘ. পানি
৩১. কোনটির অভাবে 'কিটোসিস' রোগের সৃষ্টি হয়?
ক. আমিষ খ. শর্করা
গ. খনিজ লবণ ঘ. ভিটামিন
৩২. কোন ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
ক. ভিটামিন এ খ. ভিটামিন বি
গ. ভিটামিন সি ঘ. ভিটামিন ডি
৩৩. সুস্থ মানসিকতা বিকাশে কোন খাদ্য উপাদান বেশি প্রয়োজন?
ক. স্নেহ খ. আমিষ
গ. শ্বেতসার ঘ. ভিটামিন
৩৪. মাছের যকৃতে কোন ভিটামিন থাকে?
ক. এ ও বি খ. এ ও সি
গ. এ ও সি ঘ. এ ও ডি
৩৫. খাদ্যবস্তুর মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে_
ক. আমিষ খ. শর্করা
গ. স্নেহ পদার্থ ঘ. খাদ্যপ্রাণ
৩৬. ভিটামিন 'ই' এর অভাবে যে রোগ হয়_
ক. স্কার্ভি খ. রাতকানা
গ. রিকেটস ঘ. শ্বেতকণিকা ধ্বংস হতে পারে
৩৭. কত বছর বয়সে শিশুদের আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়?
ক. ২-৪ বছর খ. ১-২ বছর
গ. ৪-৫ বছর ঘ. ৫-৬ বছর
৩৮. ৬-৯ বছরের শিশুদের প্রতিদিন কত গ্রাম আমিষ প্রয়োজন?
ক. ২০-৩০ গ্রাম খ. ২৫-৩৫ গ্রাম
গ. ৩০-৪০ গ্রাম ঘ. ৪০-৫০ গ্রাম
৩৯. দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে কোনটি?
ক. আমিষ খ. শর্করা
গ. ভিটামিন ঘ. খনিজ লবণ
৪০. খাদ্যের মধ্যে শক্তি কোনরূপে অবস্থান করে?
ক. গতিশক্তি খ. যান্ত্রিকশক্তি
গ. স্থিতিশক্তি ঘ. রাসায়নিকশক্তি
৪১. খাদ্যের উপাদান মোট কয়টি?
ক. ৩টি খ. ১২টি গ. ৯টি ঘ. ৬টি
৪২. আমিষ পরিপাক হয়ে কী হয়?
ক. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
খ. এমাইনো এসিড
গ. ফ্যাটি এসিড
ঘ. গি্লসারল
৪৩. ২৫ বছর পর্যন্ত কোন প্রাণীর দেহে বৃদ্ধি ঘটে?
ক. গরু খ. ছাগল গ. হাতি ঘ. মানুষ
৪৪. ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সহায়ক খাদ্য কোনটি?
ক. প্রোটিন ও বৃদ্ধিসহায়ক খাদ্য
খ. ভিটামিন
গ. পানি ঘ. ভিটামিন ও পানি
৪৫. শর্করা উৎপাদনের প্রাকৃতিক কারখানা বলা হয় কাকে?
ক. বায়ুমণ্ডলকে খ. কাণ্ডকে
গ. পাতাকে ঘ. উদ্ভিদকে
৪৬. রাসায়নিক গঠন অনুসারে শর্করাকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ক. তিন খ. চার গ. দুই ঘ. পাঁচ
৪৭. কোনটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে?
ক. মলটোজ খ. সেলুলোজ
গ. ল্যাকটোজ ঘ. গ্লাকোজ
৪৮. বহু অণুবিশিষ্ট্য শর্করাকে কী বলে?
ক. মনোস্যাকারাইড খ. ডাইস্যাকারাইড
গ. ট্রাইস্যাকারাইড ঘ. পলিস্যাকারাইড
৪৯. ভিটামিন 'সি' এর অভাবে যে রোগ হয়_
ক. রাতকানা খ. গলগণ্ড
গ. রিকেটস ঘ. স্কার্ভি
৫০. কোন ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়?
ক. ভিটামিন 'সি' খ. ভিটামিন 'ডি'
গ. ভিটামিন 'এ' ঘ. ভিটামিন 'কে'




উত্তরমালা : ১.ক ২.গ ৩.ঘ ৪.ক ৫.ক ৬.গ ৭.খ ৮.ক ৯.গ ১০.ঘ ১১.গ ১২.ঘ ১৩.খ ১৪.খ ১৫.ঘ ১৬.ঘ ১৭.খ ১৮.ক ১৯.গ ২০.ক ২১.খ ২২.খ ২৩.ঘ ২৪.ঘ ২৫.গ ২৬.ঘ ২৭.ক ২৮.গ ২৯.খ ৩০.ক ৩১.খ ৩২.গ ৩৩.খ ৩৪.ঘ ৩৫.গ ৩৬.ঘ ৩৭.ক. ৩৮.ঘ ৩৯.ক ৪০.ঘ ৪১.ঘ. ৪২.খ ৪৩.ঘ ৪৪.ক. ৪৫.গ ৪৬.ক ৪৭.খ ৪৮.ঘ ৪৯.ঘ ৫০.ক

চুলেরও কি খাদ্য প্রয়োজন

শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ভালো করে চুল পরিষ্কার এবং তেল দিলেই চুলের পরিচর্যা হয়ে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতন খাদ্যাভ্যাস। কারণ খাদ্যের ওপর চুলের রুক্ষতা, সুস্থতা ও মসৃণতা নির্ভর করে। সম্প্রতি শিকাগোর কয়েকজন নিউট্রিশন এবং হেয়ার এক্সপার্ট এ বিষয়ে গবেষণা করে চুলের জন্য উপকারী কিছু খাদ্য তালিকা প্রকাশ করেছেন।এ তালিকায় যেসব খাদ্যের উপস্থিতি চুলকে সুস্থ ও সুন্দর রাখবে তা নিমক্ষ্মে আলোচনা করা হলো_

মাছ : শুধু ভিটামিন আর পুষ্টি নয়, সৌন্দর্যবর্ধনে মাছও অনেক উপকারী। তবে এ জন্য কাঠখড় পুড়িয়ে মাছ কোথাও মাখতে হবে না। শুধু খেলেই হবে। আমেরিকান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র অ্যান্ড্রিয়া গিয়ানকোলি বলেন, বেশি মাছ খেলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকবে। কারণ, মাছে আছে চুল এবং মাথার ত্বকের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এর পাশাপাশি এর সঙ্গে আরও আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন বি-১২। তিনি আরও জানান, দেহে ওমেগা-৩ নামের এই ফ্যাটি এসিডের ঘাটতি দেখা দিলে তা মাথার ত্বককে রুক্ষ করে দেয়। যা রুক্ষতার জন্যও দায়ী।

সবুজ শাকসবজি : পপাই দ্য সেইলর ম্যান অনেক স্পিনাচ বা সবুজ শাক খেত। তবুও তার মাথায় চুল ছিল কম। কিন্তু সে তো কার্টুন। সুস্থ চুলের জন্য বেশি করে শাক খেলে চুল নিয়ে চিন্তা কমে যাবে। সবুজ শাকসবজি ভিটামিন এ এবং সি'র সবচেয়ে বড় উৎস। এই ভিটামিন এ এবং সি দেহে সিবামের উৎপাদন বাড়ায়। সিবাম হলো মাথার ত্বকের কোষে পুঞ্জীভূত থাকা এক ধরনের উপকারী উপাদান, যা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়াও সবুজ শাকসবজি বেশি করে গ্রহণের ফলে দেহে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়ে।

ডাল : চুল মাসে আধা ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে যদি চুলের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা যায়। চুলের এই প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত এককাপ ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুরগির মাংস : প্রোটিন এবং আয়রনের পাশাপাশি মুরগির মাংস মাথার ত্বকের কোষগুলোতে বাতাস এবং অক্সিজেনের চলাচলকে সহজ করে দেয়, যাকে বলে বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি। দেহে এটি না থাকলে চুল সহজেই ভেঙে যায় ।

ডিম : পছন্দ-অপছন্দের প্রশক্ষ্ম তোলা যাবে না! চুলের সঙ্গে করা যাবে না কোনো সমঝোতা। সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য ডিম অবশ্যই রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়। কারণ এতে প্রোটিনের পাশাপাশি আছে ভিটামিন বি-১২ যা চুলের জন্য উপকারী।

দই : পরিচর্যার জন্য চুলে দই মাখা যায়। নিয়মিত খেতে পারলেও চুলের জন্য ভালো। দইয়ে থাকা ক্যালসিয়াম, হোওয়ে এবং কেসইন প্রোটিন চুলকে করে মজবুত এবং লম্বা। সূত্র : ইন্টারনেট।

ইন্টারনেট আসক্তি

ইন্টারনেট আসক্তরা সাধারণত প্রথমে বুঝতে পারে না অথবা স্বীকার করতে চায় না তারা আসক্ত। কিন্তু আশপাশের মানুষ টের পায়। আসক্ত ব্যক্তি প্রায় প্রতিদিনই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ইন্টারনেটে বসার পর সময়জ্ঞান থাকে না কখন ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! ভার্চুয়াল জগতে থাকাকালে বাস্তবের কেউ যদি ওই সময়ে ভাগ বসায়, ধরুন, পরিবারের কেউ কথা বলতে আসেন বা মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠে, তাহলে আসক্ত ব্যক্তির মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে ওঠে। ফেসবুক, টুইটার, মাইস্পেসের মতো আন্তর্জাতিক সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোতে তার সরব পদচারণা; 'অনলাইন' বন্ধুরাই হয়ে ওঠে প্রিয় সঙ্গী। ইন্টারনেটে এই বাড়াবাড়ি রকমের সময় ক্ষেপণকে এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন 'আসক্তি'। অ্যাডিকশন বা আসক্তি একটি ব্যাধি। ইন্টারনেটের কারণে ব্যক্তির এই পরিবর্তন কি ব্যাধি? আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পনক্ষ্ম অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর মতে তাই। আসক্তি আমরা তখন বলি, তখন মানুষ কোনো কিছুতে, সেটা ভালো-মন্দ যাই হোক, অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে অর্থাৎ কোনো কিছুর প্রতি ডিপেনডেন্স তৈরি হয়। একইসঙ্গে তৈরি হয় টলারেন্স, অর্থাৎ একই সমান তৃপ্তির জন্য ধীরে ধীরে ওই 'কিছু'র পরিমাণ বাড়াতে হয় এবং সেই কিছুর প্রতি এই ডিপেনডেন্স এবং টলারেন্স যখন মানুষের জীবনের নানা ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলতে থাকে। যেমন, আমরা বলে থাকি মাদকাসক্তির কথা। একই ঘটনা আমরা দেখতে পাই ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও। ইন্টারনেট আসক্তদেরও তৈরি হয় 'টলারেন্স'। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে থাকে ইন্টারনেটে কাটানো সময়ের পরিমাণ। মানসিকভাবে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। বেশিক্ষণ অফলাইন থাকলে তাদের মাঝে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়, মাদকাসক্তদের যেমন কয়েক ঘণ্টা মাদক না নিলে দেখা দেয় শারীরিক-মানসিক নানা উপসর্গ বা 'উইথড্রল সিম্পটম', চলতি বাংলায় আসক্তরা যাকে বলে 'ব্যাড়া ওঠা'। মাদক আবার গ্রহণ করলেই যেমন উইথড্রল সিম্পটম চলে যায়, ইন্টারনেট আসক্তরাও অনলাইন হলেই স্বস্তিবোধ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিষণক্ষ্মতা, উদ্বেগ, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার প্রভৃতি রোগে ভোগেন তাদের আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একাকিত্ব, অসুখী দাম্পত্য, পেশাগত চাপ, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, কর্মহীনতা, শারীরিক আকৃতি নিয়ে হীনম্মন্যতা, আত্মবিশ্বাসের অভাবও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে আসক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। অনেকে অন্য আসক্তি, যেমন মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত হতে গিয়ে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়ে। আসক্তির প্রকৃতি গুরুতর না হলে নিজ প্রচেষ্টায়ই তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আপনি যে আসক্ত এ ব্যাপারটি আপনাকে অনুধাবন করতে হবে। এরপর দেখুন, এই আসক্তির ফলে আপনি জীবনে কী হারাচ্ছেন বা মিস করছেন। 'মিস করা' বিষয়গুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন। বাস্তবে আপনার বন্ধুসংখ্যা যত বাড়বে, তত ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুত্বের প্রয়োজন পড়বে কম। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন।

তিন বিঘা করিডোর

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গত কয়েক দশক ধরেই অন্যতম আলোচনা ও বিরোধের বিষয় হয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ভৌগলিক সীমানা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ভূখণ্ড। উভয় দেশেরই মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব জনপদের পরিচিতি ছিটমহল নামে।

আর এই ছিটমহল মানে ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের আর বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ভূখণ্ড। তবে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলের মধ্যেও আবার বাংলাদেশের ভূখণ্ড রয়েছে।

কুড়িগ্রামে ভারতের ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার ভেতরেই রয়েছে চন্দ্রখানা নামে বাংলাদেশের এক ছিটমহল।

বস্তুত ভারত ভাগের প্রাক্কালে ১৯৪৭ সালে প্রণিত এক ব্রিটিশ আইন এ ধরনের ছিটমহল জন্মের প্রেক্ষাপট রচনা করে।

ওই আইনে বলা হয়, উপমহাদেশের স্বাধীন অঞ্চলগুলো তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে অথবা চাইলে স্বাধীন সত্ত্বা নিয়েও থাকতে পারবে।

এ আইনের সুযোগ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেয় রাঙামাটির রামগড় ও পূর্ব বান্দরবান। আর পূর্ব সীমান্তের পার্বত্য ত্রিপুরা ও উত্তরের কুচবিহার যোগ দেয় ভারতে।

কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় কুচবিহার নিয়ে।

জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ তখন কুচবিচারের রাজা। তার জামিদারি বিস্তৃত ছিলো বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কিছু অংশে।

অপরদিকে রংপুর ও দিনাজপুরের জমিদারের কিছু তালুক ছিল কুচবিহারের সীমানায়। ভারত ভাগের সময় এসব জমি নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে ব্যর্থ হন তারা।

এ পরিস্থিতিতে ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। স্বদেশি আইনজীবী সিরিল র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বে সীমানা নির্ধারণের কমিশন গঠন করে দেন তিনি।

এই দায়িত্ব নিয়ে ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই লন্ডন থেকে ভারত আসেন র‌্যাডক্লিফ। মাত্র ছয় সপ্তাহের মাথায় ১৩ আগস্ট সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

এর তিন দিন পর ১৬ আগস্ট সীমানার মানচিত্র প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু তাড়াহুড়োর কাজে স্বভাবতই অনেক ভুল-ভ্রান্তি-অপূর্ণতা রয়ে যায়। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় হয়নি। যথার্থ হয়নি র‌্যাডক্লিফ কমিশনের সীমানা নির্ধারণ। উপরন্তু কমিশন সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা আর জমিদার, নবাব, স্থানীয় রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থে দেশভাগের সীমারেখা নির্ধারণে প্রভাব ফেলে বলেও অভিযোগ ওঠে।

এসবের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে ভারতের ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু ভূখণ্ড ও পূর্ব পাকিস্তানের ভেতরে ভারতের কিছু ভূখণ্ড রয়ে যায়। মূল রাষ্ট্রীয় সীমানা থেকে বিচ্ছিন্ন এসব ভূখণ্ডই পরবর্তীতে ছিটমহল নামে পরিচিতি পায়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ঝুলতে থাকা ছিটমহল সমস্যা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমস্যায় পরিণত হয়।

বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের হিসাবে, উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী থানার কিছু জমি ভারতের সীমান্ত জেলা কুচবিহারের অধীনে রয়েছে।

অপরদিকে কুচবিহারের কিছু জমি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর ডিমলা, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় রয়েছে।

এসব নিয়ে ১৯৯৬ সালের ১ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর ও ভারতের বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয় কলকাতায়। ওই বৈঠকের সিন্ধান্ত অনুযায়ী ওই বছরই মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে তৈরি করা হয় ছিটমহলের তালিকা।

ওই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মোট ১৬২ ছিটমহলের আয়তন দাঁড়ায় ২৪ হাজার ২৬৮ দশমিক ০৭ একর।

ওই তালিকা থেকে আরো জানা যায়, ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহল রয়েছে ৫১টি। এগুলোর আয়তন ৭ হাজার ১১০ দশমিক ০২ একর। অপরদিকে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৫৮ দশমিক ০২ একর।

সাম্প্রতিক জনগণনা অনুযায়ী, ভারতী ছিটমহলের লোকসংখ্যা ৩৭ হাজার। আর বাংলাদেশের ছিটমহলে বাস করে ১৪ হাজার মানুষ।

ভারতীয় ছিটমহলগুলোর অধিকাংশই রয়েছে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এ সবের মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯, পঞ্চগড়ে ৩৬, কুড়িগ্রামে ১২ ও নীলফামারিতে চারটি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর মধ্যে ৪৭টি কুচবিহার ও চারটি জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত।

ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহলবাসীর বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলবাসীর ভারতের নাগরিকত্ব থাকলেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দিনের পর দিন।

আইনি জটিলতায় কোন দেশের পুলিশই তৎপর হয় না এসব ভূখণ্ডে। তাই হরহামেশা এসব এলাকায় ভয়ংকর অপরাধীদের দাপট বাড়ে।

এছাড়া ব্যাংক, বিদ্যুৎ, পাকা সড়ক, সেতু, হাটবাজার আর বিদ্যালয়ের অভাবে যথাযথ বিকাশও হয় না এসব এলাকার মানুষের।

তারওপর ভারতের নাগরিক হয়ে ভারতে আর বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও বাংলাদেশে ইচ্ছেমতো যাওয়া-আসার অধিকার বঞ্চিত তারা। চিকিৎসা সেবাও নাজুক এখানে। নেই পর্যাপ্ত পানীয় জলও।

রাস্তা বলতে যেন জমির আইল আর সেতু বলতে বাঁশের সাঁকোকেই বোঝেন ‘ছিটের মানুষ’ হিসেবে উভয় দেশে নিগৃহীত ছিটমহলবাসী। ঠিক যেন ‘না ঘরকা না ঘাটকা অবস্থা তাদের।

এ অবস্থা থেকে ছিটমহলবাসীকে মুক্তি দিতে ছিটমহল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয় বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু ভেস্তে যায় সব ক’টিই।

ছিটমহল সমস্যা সমাধানের সর্বপ্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৪৭ সালে। কিন্তু পাক-ভারত বৈরিতায় ভেস্তে যায় সেটা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নূন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ১৯৫৮ সালে চুক্তির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। বেরুবাড়ী ছিটমহল হস্তান্তরের একটি যৌথ ঘোষণায়ও সই করেন তারা।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, বেরুবাড়ীর উত্তর দিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের পাওয়া কথা ছিলো।

পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে এ সম্ভাবনা আটকা পড়ে।

১৯৫৮ সালের চুক্তিতে ছিটমহল বিনিময়ের কথা উল্লেখ থাকলেও এ ব্যাপারে ভারতের সংবিধানের ১৪৩ ধারা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান দেশটির তৎকালীন রাষ্ট্রপতি।

তখন আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানে সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে।

পরে ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনী আর জনগণনার অজুহাতে ছিটমহল বিনিময় দফায় দফায় বিলম্বিত হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ১৬ মে উভয় দেশের স্থল সীমানা চিহ্নিতকরণ বিষয়ক এক চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

ওই চুক্তিতে উভয় দেশের মধ্যে দ্রুত ছিটমহল বিনিময়ের তাগিদ দেওয়া হয়।

মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির নামে ওই চুক্তিতে আরো বলা হয়, দক্ষিণ বেরুবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ দিকের অর্ধাংশ ও পার্শ্ববর্তী ছিটমহলগুলো পাবে ভারত। বিনিময়ে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমলের অধিকারী হবে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের পানবাড়ী মৌজার সঙ্গে দহগ্রামকে সংযুক্ত করতে বাংলাদেশকে ‘তিন বিঘা’ নামে ১৭৮ দশমিক ৮৫ মিটার এলাকা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেবে ভারত।

এ চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে বেরুবাড়ি দিয়ে দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত এ শর্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকে।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশকে তিন বিঘা ব্যবহারের অনুমতি দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও এর মধ্যে আরো একটি চুক্তি হয়।

এ চুক্তির ভিত্তিতে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন তিন বিঘা করিডর ব্যবহারের শর্তযুক্ত অনুমতি দেয় ভারত। এতে ছিটমহলের বাসিন্দাদের সকাল ছ’টা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর ওই করিডোর দিয়ে চলাচলের সীমিত সুযোগ তৈরি হয়।

অনেক দেনদরবারের পর ২০০১ সালের ১১ মার্চ থেকে শুধু দিনের বেলা কোন বিরতি ছাড়াই ১২ ঘণ্টা তিনবিঘা করিডর দিয়ে চলাচলের অনুমতি মেলে।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ছিটমহল সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয় আওয়ামী লীগও। তবে কাজ হয়নি তাতেও।

দিল্লিতে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে দু’দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ সীমানা ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ পর্যন্ত গোটা চারেক বৈঠক করে ১৯৭৪ সালের চুক্তির আলোকে সীমান্ত সমস্যা সুরাহার সিদ্ধান্ত নেয় উভয় পক্ষ।

ছিটমহল ও অপদখলীয় জমিগুলোতে ২০০৭ সালে যৌথ সফরের পর ধাপে ধাপে বিষয়গুলো সুরাহার প্রস্তাব তোলে বাংলাদেশ।

কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, ধাপে ধাপে নয়, সমন্বিতভাবে বিষয়গুলো সমাধান করতে চায় তারা।

সর্বশেষ ভারতের মনমোহন সিংহ দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে ৬ সেপ্টেম্বর তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ঘোষণা দেন।

কিন্তু এতেও সমাধান হয় না ছিটমহল সমস্যার। তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা খোলার রাখার ঘোষণা দিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর সব ছিটমহল নিয়ে কোন কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছতে ব্যর্থ হন।
তাই বাংলাদেশে মনমোহনের সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিন ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই নতুন করে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ শুরু হয় ছিটমহলগুলোতে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের ছিটমহলের বাসিন্দারাই নানা কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এমনকি টানা দু’রাত বাতি নিভিয়ে রেখে অভিনব প্রতিবাদ জানায় উভয় দেশের ‘ছিটের মানুষ’। সাড়ে ছ’ দশক অপেক্ষা করেও স্বাধীন দেশের মুক্ত নাগরিকের জীবন-যাপনের স্বপ্ন যেন লুকোচুরি খেলছে তাদের সাথে।